ফারহান রনিকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন শারমীন বেগম ওরফে হরলুজা। ফারহানের স্বজনের জায়গাতেই থাকতেন শারমীন ও তার স্বামী সন্তানরা। পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক। এ অবস্থায় শারমীনকে পৈচাশিকভাবে হত্যার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। ওই পরিবারে এখন শোকের মাতম। ঘাতক ফারহানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন তারা।
এদিকে এ ঘটনায় শারমীন বেগমের বড় মেয়ে রুমা আক্তার বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) ফারহানকে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফারহান অসংলগ্ন কথা বলছে। তিনি বলতে চাইছেন, শারমীন বেগমের এক মেয়েকে ফারহান বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু শারমীন তার কাছে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না। এ জন্য শারমীন ফারহানকে তাবিজ করেছে বলে জানান। যাতে ফারহান তার মেয়েকে ভুলে যায়। এসব কারণে তিনি তাকে হত্যা করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ফারহান মাদকাসক্ত। একই সঙ্গে তিনি চুরি, ছিনতাইয়ে জড়িত। পরিবারও তার জ্বালায় অতিষ্ঠ। গত কয়দিন ধরে ফারহানের বাবা যুবলীগ নেতা শাহনেওয়াজ ভূঁইয়া বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীর বাজারে ঘটে যাওয়া শারমীনের হত্যাকাণ্ড যেন সব পৈচাশিকতাকে হার মানিয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ সেখানকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ৪৭ বছর বয়সি নারীর পুড়া মরদেহ (কয়লা) উদ্ধার করে। ওই নারীর মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয় পাশের একটি পুকুরের কাছে জমি থেকে। মাথাটিও গর্তে পুঁতে রাখা হয়। ঘাতকের দেওয়া স্বীকারোক্তি মতে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই নারী উপজেলার হীরাপুর গ্রামের কলোনি এলাকার মো. নুরুল ইসলাম বেপারীর স্ত্রী শারমীন বেগম। ভোরে ওই নারীকে ডেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় ঘাতক ওই যুবক।
শারমীনের বড় মেয়ে রুমার দাবি, চুরি করা হাঁস রান্নার জন্য তার মাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। মা হয়তো এতে অপারগতা প্রকাশ করে। এ কারণে সে হত্যা করে।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘাতক ফারহান এ নিয়ে একেক সময় একেক কথা বলছে। তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।