কুমিল্লা

মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ১০০ কোটির মানহানি মামলা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুকে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামি হিসেবে জামায়াত সমর্থক (বহিষ্কৃত) আবুল হাসেম ও অহিদুর রহমানকে আনা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম আক্তারু উজ জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- চৌদ্দগ্রামের কুলিয়ারা গ্রামের প্রবাসী আবুল হাশেম মজুমদার (৪৮), ওহিদ মজুমদার (৪০), রাসেল (৩০), ইসমাইল মজুমদার (৪০), বেলাল মজুমদার (৪৫), পেয়ার আহাম্মদ মজুমদার (৩৭), নয়ন মজুমদার (৩২), এমরান (৩৪), পাতড্ডা গ্রামের শিমুল (৩৫), শনপুর গ্রামের রুবেলসহ (৩৫) অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন। এদের মধ্যে এর আগে গত মঙ্গলবার ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনের মধ্যে শুধুমাত্র ইসমাইল মজুমদারকে এ মামলায় আসামিভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আবদুল হাই কানু উল্লেখ করেন, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। গত রবিবার নিজের গ্রাম বাতিসার লুদিয়ারা এসে তিনি জামায়াত সমর্থক আবুল হাশেমসহ অন্য অভিযুক্তদের হাতে আটক হন। এরপর তাকে কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তারা পুরো ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে সামাজিকভাবে তার ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুকে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানু জানান, মঙ্গলবার ফেনী আদালত ভবনের সামনে থেকে মামলার অভিযোগের কপি ছিনতাই করা হয়। অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আমি থানায় যেতে পারিনি। তাই চৌদ্দগ্রামের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার প্রমথ রঞ্জন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও আত্মীয়ের মাধ্যমে বুধবার অভিযোগটি থানায় পাঠানো হয়েছে।

আব্দুল হাই কানুর ছেলে যুবলীগ নেতা গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বিপ্লব বলেন, যার নেতৃত্বে ঘটনা সেই আবুল হাসেমসহ অন্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। যারা দাঁড়িয়ে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিল, এমন চারজনকে পুলিশ আগে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর থেকে ফেনীতে গিয়েও বাবাকে নিয়ে শঙ্কিত আছি। যে কোনো সময় আবারও হামলা হতে পারে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আক্তার-উজ জামান জানান, মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। এ মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।