হাঁটুর বয়সী ক্রিকেটারকে ধাক্কা, শাস্তির মুখে বিরাট কোহলি

মাঠের আগ্রাসনে সবসময়ই এগিয়ে থাকেন বিরাট কোহলি। তাই বলে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা স্যাম কনস্টাসকে ধাক্কা দেওয়াটা অনেকেই মানতে পারছেন না। আজ বৃহস্পতিবার মেলবোর্ন টেস্টের প্রথম দিনে এই কাণ্ড ঘটান কোহলি। অবশ্য এতে ১৯ বছর বয়সী কনস্টাসের দোষও দেখছেন অনেকে। এই ঘটনায় তাই দুজনকেই শাস্তি দিতে পারে আইসিসি।

ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের দশম ওভারের শেষে। মোহাম্মদ সিরাজ সেই ওভার শেষ করার পর দিক পরিবর্তন করার জন্য হেঁটে আসছিলেন কোহলি। উল্টো দিক থেকে আসছিলেন কনস্টাসও। এমন সময় দুজনের সংঘর্ষ হয়। রেগে গিয়ে কনস্টাস কোহলিকে কিছু একটা বলেন। এতে আরও চটে যান কোহলি। তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে রক্তচক্ষু দেখিয়ে কনস্টাসকে কিছু একটা বলতে থাকেন।

এসময় আরেক ওপেনার উসমান খাজা এসে পরিস্থিতি সামলান। দুজনকে বুঝিয়ে তিনি আলাদা করে দেন। ঝামেলা থামাতে এগিয়ে আসেন আম্পায়ারেরাও। বার বার সেই ঘটনার রিপ্লে দেখাতে থাকে সম্প্রচারকারীরা। সেখানে অবশ্য দেখা গেছে, কনস্টাস মাথা নিচু করে ব্যাট হাতে যাচ্ছিলেন। কোহলিই যাওয়ার পরে দিক পরিবর্তন করে কনস্টাসের কাছে গিয়ে তাকে গিয়ে ধাক্কা মারেন।

ক্রিকেট আইনের ২.১২ ধারা অনুযায়ী ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি বা অন্য কারও (দর্শক) সঙ্গে অনুপযুক্ত শারীরিক সংঘর্ষের ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদি কোনো ক্রিকেটার ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বেপরোয়াভাবে ক্রিকেটার বা আম্পায়ারকে ধাক্কা দিলে সেটা লেভেল টু পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে দোষী ক্রিকেটার তিন থেকে চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট পেতে পারেন।

অবশ্য কোহলির শাস্তি নির্ভর করছে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। সেই মুহূর্তের পরিস্থিতি বিচার করে তার এখন যাচাই করবেন যে, অপরাধ ইচ্ছাকৃত ছিল কি না। যদি পাইক্রফ্ট মনে করেন দু’জনেই লেভেল টু পর্যায়ের অপরাধ করেছেন তাহলে তিন বা চার ডিমেরিট পয়েন্ট দিতে পারেন। চার ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে পরের টেস্টে নির্বাসিত হতে হবে কোহলিকে। লেভেল ওয়ান পর্যায়ের অপরাধের ক্ষেত্রে সাধারণত জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।