শত্রুদের মহাকাশযান থেকে পাঠানো সংকেতকে ব্যাহত করতে একটি নতুন স্থলভিত্তিক স্যাটেলাইট জ্যামার আনছে মার্কিন স্পেস ফোর্স। আগামী মাসগুলোতে এসব জ্যামারের প্রথম চালান প্রবেশের কথা রয়েছে। খবর ডিফেন্স নিউজের।
রিমোট মডুলার টার্মিনালটি কেবলমাত্র অনুমোদন হয়েছে জানিয়ে একজন মুখপাত্র বুধবার ডিফেন্স নিউজকে বলেছেন, জ্যামারগুলো সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে এবং তারাই এর তত্ত্বাবধান করবে।
মার্কিন স্পেস ফোর্স প্রথম চালানের অংশ হিসাবে ১১টি জ্যামার সিস্টেম পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পরিকল্পনা করেছে। এসব জ্যামার চূড়ান্তভাবে ব্যবহারের আগে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে এই ধরনের ১৬০টি জ্যামার সিস্টেম তৈরির জন্য তহবিল রয়েছে এবং আগামী বছরগুলোতে এই জ্যামার সিস্টেমের চাহিদা ২০০টিতে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্পেস র্যাপিড ক্যাপাবিলিটিস অফিস (আরসিও) ডিরেক্টর কেলি হ্যামেট গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ছোট, মডুলার টার্মিনালগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্রদের, বিশেষ করে মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নজরদারি করছে এমন উপগ্রহ থেকে প্রতিপক্ষের যোগাযোগকে ব্যাহত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই জ্যামার সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা তাদের নির্দেশনা এবং তাদের টার্গেটিং লিঙ্কগুলোকে ব্যাহত করতে চাই।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নজরদারি বাড়াতে চীন যেসব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। ইয়াওগান নামক রিমোট সিস্টেমগুলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্র বাহিনীর মধ্যে দূরত্ব সনাক্ত করতে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। ইয়াওগানের সর্বশেষ সংস্করণ ইয়াওগান-৪১ নামক একটি সিস্টেম গত বছরের শেষের দিকে জিওস্টেশনারি কক্ষপথে চালু করেছে চীন। এর মাধ্যমে গাড়ির আকারের বস্তুগুলোকেও ট্র্যাক করতে সক্ষম চীন।
তবে হ্যামেটের মতে, মার্কিন আরএমটি জ্যামারগুলো মূলত একটি বিকট আওয়াজ সৃষ্টি করবে যাতে চীনের রাডারগুলো তাদের অন্য সিস্টেমকে মার্কিন সম্পদ আক্রমণের নির্দেশ পাঠাতে না পারে।
তবে মার্কিন এই জ্যামারগুলো প্রথমদিকে কোথায় চালু করা হবে সে বিষয়ে কোনও কিছু জানাননি হ্যামেট। তিনি জানান, এই টার্মিনালগুলো ছোট আকৃতির এবং প্রতিটির দাম প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ডলার।