মেলবোর্ন টেস্টে অভিষিক্ত অস্ট্রেলিয়ার ১৯ বছর বয়সী ওপেনার স্যাম কনস্টাসকে ধাক্কা মারায় বিরাট কোহলিকে জরিমানা করেছে আইসিসি। তার ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো। তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বড় অপরাধ করেও অতি অল্প সাজা পেয়েছেন কোহলি। ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা তার হাতের ময়লা।
ক্রিকেট আইনের ২.১২ ধারা অনুযায়ী ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি বা অন্য কারও (দর্শক) সঙ্গে অনুপযুক্ত শারীরিক সংঘর্ষ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদি কোনো ক্রিকেটার ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বেপরোয়াভাবে ক্রিকেটার বা আম্পায়ারকে ধাক্কা দিলে সেটা লেভেল টু পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে দোষী ক্রিকেটার তিন থেকে চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট পাবেন। চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট মানে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়া।
মেলবোর্ন টেস্টের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ড্রু পাইক্রফট কোহলির অপরাধকে হালকাভাবেই দেখেছেন। তাই মাত্র ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে, সঙ্গে জুটেছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার মার্ক ওয়াহ তাই বলেছেন, ‘আপনি যেই হন না কেন, এমন আচরণের স্থান নেই। সে খুব খুব ভাগ্যবান, শাস্তিটা একদমই কম হয়েছে। খুব সহজেই সে লেভেল টু পর্যায়ের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে পারত। আর্থিক জরিমানাই যদি করা হবে, সেটা ম্যাচ ফির ৭৫ শতাংশ অর্থ হতে পারত। কোনো অবস্থাতেই শারীরিক সংঘর্ষ গ্রহণযোগ্য নয়।’
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার, কোচ এবং ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রীও কোহলির এই শাস্তিকে কম মনে করছেন, ‘কোহলি যখন পেছন ফিরে এই ঘটনাটা দেখবে, সে নিজেকে ভাগ্যবান ভাববে। কারণ, সে যে শাস্তিটা পেয়েছে….। মাঠে যে ঘটনা সবার শেষে দেখতে চাই, সেটা হলো শারীরিক সংঘর্ষ। এটা কেউ চায় না। এটা খেলা। কেউ এই সীমা লংঘন করে না। প্রায় দেড় যুগ হয়ে গেল সে খেলছে, পেছনে ফিরে এ ঘটনায় তাকালে সে গর্ব অনুভব করবে না।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের মতে, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় না শাস্তিটি কড়া হয়েছে। আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে এবং সাধারণত ১৫–২৫ শতাংশ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটির দিকে তাকান। সারা দুনিয়া মিলিয়ে বছরের এ দিনটিতেই সবচেয়ে বেশি লোক টেস্ট ক্রিকেট দেখেছে। ভাবুন তো, গ্রেড ম্যাচে এমন কিছু ঘটলে কি হতো? আমার মনে হয় লোকে এখন ভাববে, ব্যাপারটা আর তেমন কিছুই না।’
অস্ট্রেলিয়ার আরেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না, এমন খেলোয়াড়দের ওপর আর্থিক জরিমানা কোনো প্রভাব ফেলবে। তারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করে এবং (শাস্তি) তাতে পরিস্থিতি খুব একটা পাল্টাবে না।’
মেলবোর্ন টেস্টের ধারাভাষ্য দেওয়া সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন বলেছেন, ‘আমার মতে, বিরাট খুব ভাগ্যবান। যে বিরোধটা হয়েছে, সেটি ব্যক্তি হিসেবে তার জন্য মোটেও ভালো ছিল না। অ্যাডিলেড ওভালে মোহাম্মদ সিরাজ যে শাস্তি পেয়েছে, তাকেও একই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাই আমার মতে, সে আসলে ছাড় পেয়ে গেল।’