বহু প্রাণ ও ত্যাগের বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী সরকারের অবসান হয়েছে। এখন দরকার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং প্রতিষ্ঠা করা। এ কাজে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। কেননা, এই তরুণরাই এদেশের সত্যিকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজকর্মীদের নিয়ে ‘রোড টু ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন।
ঢাকার আগারগাঁওস্থ ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশ (আইএবি) মিলনায়তনে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘দেশ ফাউন্ডেশন’।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার শক্তিশালী এবং কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা তথা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা করা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা ইত্যাদি।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এমডিএম) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, সিনিয়র সাংবাদিক আতাউর রহমান কাবুল, শিক্ষা উদ্যোক্তা মো. তৈয়বুর রহমান, গবেষক, সমাজকর্মী ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না, অ্যাডভোকেট আহসান উদ্দিন খান, দেশ ফাউন্ডেশনের তাওসীফ আকিব খান, তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা, গবেষক ও লেখক আহমেদ এহসান কবির শান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দেবজিত সাহা।
বক্তারা তরুণদের সম্পৃক্ত করে গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
গোলটেবিল আলোচনায় ববি হাজ্জাজ বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে নির্বাচনই একমাত্র উপায়। কিন্তু এর সঙ্গে বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কারে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অতীতের অনিয়ম ও দমনপীড়নের বিচার না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘বাংলাদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘তরুণদের জন্য রাজনৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’
তাওসীফ আকিব খান বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তরুণ নেতৃত্বকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা আনতে এবং গ্রাম পর্যায়ে নেতৃত্ব তৈরি করতে আমাদের একটি কার্যকর কর্মশালা ও ব্লুপ্রিন্ট প্রয়োজন। তরুণদের মধ্যে গণতন্ত্র নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে আরও বেশি কনফারেন্স এবং আলোচনার আয়োজন করা উচিত।’
মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘তরুণ সমাজের মেধা দেশ থেকে পাচার হওয়া ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় হুমকি। কর্মসংস্থান ও নিরাপদ ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। যারা দেশের সম্পদ পাচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
আতাউর রহমান কাবুল বলেন, ‘গণতন্ত্র সুসংহত রাখতে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভকে শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে গণমাধ্যম ও বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। মত প্রকাশের অধিকার সংকুচিত হলে গণতন্ত্র ব্যর্থ হবে। এ ব্যাপারে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।’
আহমেদ এহসান কবির শান বলেন, ‘গণতন্ত্রের প্রসারে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে হলে রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তাদের ভূমিকা সুসংহত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তরুণ প্রতিনিধিদের সরাসরি অংশগ্রহণ, যেখানে তাদের মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।