রহমতগঞ্জ আবাহনী হাঁটছে সমান্তরালে

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সমান্তরালে হাঁটছে রহমতগঞ্জ ও আবাহনী। দুদলই পাঁচ ম্যাচ খেলে জিতেছে চারটিতে। শনিবার তারা পেয়েছে চতুর্থ জয়ের দেখা। গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে কামাল বাবুর রহমতগঞ্জ। ৬-১ গোলের জয়ে তারা ধরে রেখেছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থান। তাদের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট। শীর্ষে থাকা মোহামেডানের চেয়ে তারা পিছিয়ে তিন পয়েন্টে। কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে স্বাগতিক আবাহনী ২-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশকে। আবাহনীর থলেতেও রহমতগঞ্জের সমান ১২ পয়েন্ট। তবে তারা তিনে আছে গোল গড়ে পিছিয়ে থাকায়। এই দুই ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে লিগের প্রথম লেগের পঞ্চম রাউন্ড। শেষ পাঁচবারের লিগ শিরোপাজয়ী বসুন্ধরা কিংস শেষ দুই ম্যাচে পায়নি জয়ের দেখা। সাত পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে পাঁচে। চারে থাকা ব্রাদার্সের সংগ্রহ কিংসের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি।

পুরনো ঢাকার দল রহমতগঞ্জ এবার মৌসুমের শুরু থেকেই চমক দেখিয়ে চলছে। তারা ফেডারেশন কাপেও আছে ভালো অবস্থানে। শনিবারের প্রতিপক্ষ ফকিরেরপুলকে সম্প্রতি ফেডারেশন কাপে ৬-০ ব্যবধানে হারানোর সুখস্মৃতি করে মাঠে নেমেছিল দলটি। শনিবারও তারা ফকিরেরপুলের জালে বল জড়িয়েছে ছ’বার। ম্যাচের ২৫ মিনিটে স্যামুয়েল বোয়েটাংয়ের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রহমতগঞ্জ। এর তিন মিনিট পর আকোবির তুরায়েভ সমতায় ফিরিয়েছিলেন স্বাগতিকদের।  ৫৪ মিনিটে রাজন হাওলাদারের গোলে লিড পুনরুদ্ধার করে রহমতগঞ্জ। এরপর ৬২ মিনিটে তাজউদ্দিন ৩-০ করেন। চার মিনিট পর লিগে নিজের পঞ্চম গোলের দেখা পান দারুণ ফর্মে নাবিব নেওয়াজ জীবন। ৭২ মিনিটে বোয়েটাং দ্বিতীয় গোল করেন। আর রাজন হাওলাদার দলের ষষ্ঠ গোল করেন যোগ করা সময়ে।

আবাহনীর জন্য এই লিগের প্রথমপর্ব ভীষণ কঠিন দলে কোনো বিদেশি নেই বলে। তবে ধানম-ি জায়ান্টরা ভালো মানের স্থানীয়দের কাছ থেকে পাচ্ছে সর্বোচ্চ সার্ভিস। আগের ম্যাচে ফর্মে ফেরা সুমন রেজা চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন প্রায় ২ মাসের জন্য। তবে আবাহনীর সাইড বেঞ্চও যে খারাপ হয়নি তার প্রমাণ দিতে সুমনের জায়গায় নেমেই গোল করেন আরমান ফয়সাল আকাশ। পরে গোল করেছেন জাতীয় দলের উইঙ্গার শাহরিয়ার ইমনও।

কুমিল্লায় আবাহনী ম্যাচে এগিয়ে যায় ২৩ মিনিটে। মাঝমাঠে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে মানিক মোল্লা নিখুঁত পাস বাড়ান আকাশকে, বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড। শেষ দিকে আবাহনীর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন শাহরিয়ার ইমন। ৮৮ মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই (ইমন) ফরোয়ার্ড।