গাইবান্ধায় হিমালয়ান শকুন উদ্ধার

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা থেকে একটি হিমালয়ান প্রজাতির শকুন উদ্ধার করেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কালির বাজার এলাকা থেকে শকুনটটি উদ্ধার করা হয়। পরিবেশবাদী সংগঠন তীর (টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ) গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সদস্যরা শকুনটি উদ্ধার করে। এর আগে এদিন সকালে স্থানীয়রা ওই শকুনটি দেখতে পায়।

সংগঠনটির সদস্যরা জানিয়েছেন, শকুনের একটি বড় ঝাঁক সন্ধ্যায় ফুলছড়ি উপজেলার শান্তির মোড়ে এলাকাবাসী দেখতে পায়। শকুনগুলো তাদের ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের ডানায় ভর করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছিল। ফলে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে আসা এসব শকুন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে কয়েকটি শকুন ক্লান্ত হয়ে খাবারের খোঁজে ও বিশ্রামের জন্য গাছের মগডালে বসে, কয়েকটি মাটিতে নেমে আসে। এর মধ্যে একটি শকুনকে স্থানীয় লোকজন ধরে ফেলেন। শকুন ধরার বিষয়টি তীরের গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সদস্যরা জানতে পারেন। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে একটি শকুন উদ্ধার করা হয়।

তীরের গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, শকুনটি উদ্ধারের পাশাপাশি এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য শকুনটি সোমবার বন বিভাগের গাইবান্ধার কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তীরের উপদেষ্টা গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, শকুন হচ্ছে প্রকৃতির ঝাড়ুদার। শকুন বড় ডানার বৃহদাকার পাখি, এটি তীক্ষ্ণ দৃষ্টির অধিকারী ও মৃত প্রাণী ভক্ষণকারী পাখি। শকুনই একমাত্র প্রাণী, যারা রোগাক্রান্ত মৃত প্রাণী খেয়ে হজম করতে পারে এবং অ্যান্থ্রাক্স, যক্ষ্মা, খুরারোগের সংক্রমণ থেকে জীবজগৎকে রক্ষা করে।