আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় এখতিয়ার বহির্ভূত এডহক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন আরেকটি কমিটি গঠনের অভিযোগ তুলেছেন খুলনা বিভাগীয় নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের সদস্যরা।
তারা বলেন, বিগত সরকারের ১৫ বছর সিলেকশনে কমিটি গঠন হয়। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর হঠাৎ একটি পক্ষ আবার সংগঠনের সদস্যদের ভোটাধিকার হরণ করেছে। তারা নির্বাচন ছাড়া মালিক গ্রুপ দখলের চেষ্টা করছেন।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মালিক গ্রুপের এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে খুলনা বিভাগীয় নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম আহ্বায়ক এমডি আব্দুল গফফার বলেন, ২০০৯ সালে মালিক গ্রুপের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আর নির্বাচন হয়নি। বিগত সরকারের ১৫ বছর সিলেকশনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে আসছিল। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৪ আগস্ট বিগত কমিটি পদত্যাগ করে। পরবর্তীতে সাধারণ সদস্যেদের মতামতের ভিত্তিতে ৫ সদস্যের একটি এডহক কমিট গঠন হয়। কমিটি ৩০ নভেম্বর নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করে। ঐ নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
কিন্তু এক প্রার্থীর স্ত্রী নির্বাচনের মাত্র দুইদিন আগে আদালতে একটি মামলা করেন। ঐ মামলায় আদালত নির্বাচন স্থগিত করে আগামী ৬ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেন। এমন অবস্থায় একটি পক্ষ ছাত্র সমন্বয়কদের ডেকে গত ২৯ ডিসেম্বর ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করে। মালিক গ্রুপের ১৫৩ জন সাধারণ সদস্যদের মধ্যে বর্তমানে মালিক গ্রুপের ২০/২২ জন সদস্য অনুপস্থিত রয়েছেন। আর নির্বাচনের পক্ষে ৯০জন সদস্য। অথচ এখানে কারো মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিগত বছরের মতো কমিটি গঠন ও ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে আদালত অবমাননা করা হয়েছে।
মালিক গ্রুপ নেতারা বলেন, বিগত সময়ের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য কোথায়। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নির্বাচন করতে চাই। অথচ আদালত না মেনে মালিক গ্রæপ দখল চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের পক্ষে থাকা সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। মালিক গ্রুপ সদস্যরা এই অবস্থা থেকে মুক্তি চান।
মালিক গ্রুপ নেতা ও সাধারণ সদস্যরা বলেন, গত ১৫ বছর মালিক গ্রুপ ছিল শেখ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাইয়েরা)। সর্বশেষ শেখ সোহেল ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি এবং তার ভাই শেখ রুবেল ছিলেন সহ-সভাপতি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মালিক গ্রুপের সদস্য সচিক কাজী ইমাম হোসেন বাদশাসহ অন্যান্য নেতা ও সাধারণ সদস্যারা।