কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ ইনভেস্টরস কনফারেন্সের এক বক্তৃতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, দেশের মুদ্রাস্ফীতি আগামী জুনে ৭ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছরে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। এখন যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তাতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাঞ্ছিত ফল না এলে আগামী মাসে মুদ্রানীতি আরও শক্ত করা হবে। এর মর্মার্থ হলো তিনি মুদ্রাস্ফীতির এই দানবকে রুখতে তার হাতে যে সব কলাকৌশল এবং হাতিয়ার বিদ্যমান রয়েছে, সেগুলোর সদ্ব্যবহার করবেন; লক্ষ্য অর্জনকে করবেন অব্যর্থ, আর সাধারণ মানুষকে দুর্মূল্যের বাজারে দেবেন স্বস্তি। সাধারণ মানুষের জন্য এটা একটা আশা জাগানিয়া সংবাদ। কিন্তু সামনে বাস্তবতা কী দাঁড়াবে, সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর একজন ভুয়োদর্শী ও প্রাজ্ঞ অর্থনীতিবিদ। তবে মানবীয় দোষত্রুটির ঊর্ধ্বে বোধকরি কেউই সহজে উঠতে পারেন না; তিনিও যে তা পারবেন না, তাতে অস্বাভাবিকতা তেমন কিছু নেই। তবে আন্তরিকতা, যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে সমন্বিত কর্মপরিবেশ (ইকো সিস্টেম) পাওয়াই আসল কথা; একক প্রচেষ্টায় কল্কে পাওয়া দুষ্কর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বলেছিলেন যে, তিনি আর টাকা ছাপাবেন না। এখন আবার নিজের কথার বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ করে তিনি টাকা ছাপানোর কাজে হাত দিয়েছেন। ব্যাংকের ওপর মানুষের আস্থা ফেরাতে, বেকারত্বের দায় না বাড়াতে এবং ব্যাংকিং সেক্টরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে তার এ কাজ না করে উপায়ও ছিল না; এ কাজের জন্য কেউ তাকে দোষ দিয়েছেন বলেও জানি না। যদি কেউ দিয়েও থাকে তাতে কোনো সারবত্তা থাকতে পারে না।
বিগত শতাব্দীর তিরিশের দশকে মহামন্দার সময় ১৯৩৩ সালের মার্চের ৪ তারিখে ৩২তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট (এফডিআর) হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করেন। ঐ সময় মার্কিন জিডিপি অর্ধেকে নেমে গিয়েছিল। ৩০ লাখ শ্রমিক তখন কর্ম হার, অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বালিশের নিচে রেখে দিচ্ছিল। তারল্য সংকটে অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের দাবি মেটাতে অপারগ হয়ে পড়ায় তাদের অনেক শাখা বন্ধ করে রাখছিল। এ চরম পরিস্থিতি মোকাবিলায় এফডিআর পরের দিনই অনির্দিষ্টকালের জন্য সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে The Emergency Banking Act, ১৯৩৩ প্রণয়ন করেন। এ আইনের আওতায় এফডিআর প্রচলিত গোল্ডস্ট্যান্ডার্ড থেকে সরে এসে ব্যাংকের সম্পদের ভিত্তিতে মুদ্রা ছাপিয়ে তারল্য সংকট দূর করার ব্যবস্থা নেন। আইনটি প্রণীত হওয়ার পর মার্চের ১২ তারিখে তিনি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন যে, ‘I can assure you that it is safer to keep your money in a reopened bank than under the mattress.’ এরপর পর্যাপ্ত তারল্য নিয়ে মার্চের ১৫ তারিখে সব ব্যাংক খুলে যায়। এটাই ছিল এফডিআর প্রবর্তিত New Deal এর প্রথম অঙ্ক।
ব্যাংকের তারল্য সমুন্নত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এফডিআর গৃহীত ভূমিধস পদক্ষেপের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা মুদ্রণ নিতান্তই নস্যি। তাছাড়া গভর্নর নিজেই বলেছেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ছাপানো এই অতিরিক্ত অর্থ বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেবেন। কাজেই মুদ্রানীতির সঙ্গে এ পদক্ষেপের কোনো সংঘর্ষ বাধার আশঙ্কা নেই। তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার কোনো কারণ নেই। তবে বাংলাদেশ উন্নয়নের এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এখানে কাঠামোগত ও কাঠামো বহির্ভূত অনেক উপাদান ক্রিয়াশীল, যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতা বহির্ভূত। অথচ ভাবগতিক দেখে মনে হয় যে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পুরো কাজটির দায়িত্ব এই ব্যাংকের ওপরই অর্পিত।
সুদ বৃদ্ধি করে শক্ত ঋণনীতির মাধ্যমে বাজারে অর্থের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হলে চাহিদা-তাড়িত মূল্যস্ফীতি কমলেও বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে তা হিতে বিপরীত ফল নিয়ে আসতে বাধ্য। জনসংখ্যা ও মানুষের আয় বৃদ্ধি পেলে এ জাতীয় মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। ব্যয়-তাড়িত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য উৎপাদনের উপকরণগুলোর মূল্য কমিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিতে হয়। সেটা করা না গেলে যে মহৌষধ অবশিষ্ট থাকে সেটা হলো দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপর্যয় ও দুর্নীতি মূল্যস্তর টেনে ওপরে তোলে। এসব তত্ত্ব কথার বাইরে যে সব অদৃশ্য হাত মূল্যে স্ফীতি আনে, তার মধ্যে চাঁদাবাজি ও বাজার নিয়ন্ত্রণের কারসাজি অন্যতম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যে সব হাতিয়ার রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে কেবলমাত্র প্রথমোক্ত শ্রেণির কারণ আংশিক ভাবে দূর করা সম্ভব হতে পারে; আবার ঘাটতি বাজেট ও সম্প্রসারণশীল রাজস্বনীতি এটার প্রভাবটাও নিরপেক্ষ করে দিতে পারে।
দেখা যাচ্ছে যে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একক কর্র্তৃত্বাধীন কোনো বিষয় নয়; এটা আসলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সুসমন্বিত নীতি ও কার্যক্রমের ফসল, সুশাসন যার কেন্দ্রে অবস্থিত। বিগত স্বৈরাচারের আমলে রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতির ক্ষেত্রও ‘শিষ্টের দমন ও দুষ্টের লালন’ নীতি চর্চা করা হয়েছে, হয়েছে স্বজন-তোষণ নীতিতে তেলা মাথায় তেল মাখানোর অনুশীলন। ফলে জন্ম হয়েছে অনেক দেশপ্রেম-শূন্য নিষ্ঠুর অলিগার্কের। এই মুহূর্তে অধিকাংশ নীতি ও কর্মযজ্ঞ সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকলেও বৈদেশিক মুদ্রার বাজার দরে অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে চাঁদাবাজি ও অলিগার্কদের বাজার নিয়ন্ত্রণ দুরাচারের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্স। বর্তমানে শত সমস্যা সত্ত্বেও এ দুটো খাতে কিছুটা হলেও আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চাঁদাবাজি যে শুধু আছে তাই না, অনেক ক্ষেত্রে বেড়েও গেছে; অনেকেই কৌতুক করে বলেন যে, চাঁদাবাজি বহাল তবিয়তে রয়েছে, পরিবর্তন হয়েছে শুধুমাত্র আদায়কারীর। আর অলিগার্কদের বাজার নিয়ন্ত্রণ তো একের পর এক দৃশ্যমান; সর্বশেষ দৃষ্টান্ত ভোজ্য তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে লিটারপ্রতি ৮ টাকা বর্ধিত মূল্য নির্ধারণ। অর্থ উপদেষ্টা নিজেও স্বীকার করেছেন যে, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত চালেঞ্জিং।
চালেঞ্জিং হলেও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ অসাধ্য নয়। এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার, আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সমন্বিত মনিটরিং বা পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা এবং একচেটিয়া কারবারের স্থলে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নানা ধরনের প্রশাসনিক, নীতিগত, আর্থিক ও রাজস্বভিত্তিক প্রণোদনা এবং নিরোধব্যবস্থা নিতে হয়। যখন কোনো একটি পণ্যের সিংহভাগের ওপর অল্প কিছু ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণ চলে আসে, তখন সেই গোষ্ঠী সে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভুঁইফোড় মুনাফা লাভে প্রয়াসী হয়। যেমন ভোজ্য তেলের আমদানিকারকদের সংখ্যা খুবই সীমিত; এখানে মাত্র তিনটা প্রতিষ্ঠান ৪৮ শতাংশ পণ্য আমদানি করে থাকে। আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ৪০০ থেকে ৪২৫টা হিমাগার মালিক। ডিমের বাজারও মুষ্টিমেয় কয়েকটি পোলট্রি ফার্ম নিয়ন্ত্রণ করে। চালের বাজারে আগে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা ছিল। তখন বাজার ছিল পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক। এখন অনেক ক্ষুদ্র চালকলের অপমৃত্যু ঘটেছে, সেখানে গড়ে উঠেছে পুঁজি-নিবিড় প্রায় হাজার দেড়েক স্বয়ংক্রিয় চালকল। ফলে ভোক্তার সংখ্যা অসংখ্য থাকলেও সরবরাহকারীর সংখ্যা হয়ে পড়েছে সীমিত, কিন্তু তাদের সক্ষমতা ব্যাপক। এরা জোটবদ্ধ হয়ে নিজেদের স্বার্থে পণ্যের উচ্চমূল্য নির্ধারণে প্রায়ই অপপ্রয়াস চালানোর সুযোগ পান।
বাজার মনিটরিং মানে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করা নয়; এটা শুরু করতে হবে ওপরের স্তরে, রাঘব-বোয়ালদের থেকে। সংখ্যা-স্বল্পতার কারণে তারা যেমন বাজার নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন, তেমনি আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের পরিবীক্ষণ করাও সুবিধাজনক। অন্ততপক্ষে আমদানিকারক, বড় বড় পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারক, উৎপাদক, আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের জন্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলে সেখানে তাদের পণ্য সংরক্ষণ ও লেনদেনের পরিবীক্ষণ করা যায়। এতে তাদের কার্যকলাপ ও উদ্দেশ্যের প্রকৃতি নিয়ে ধারণা পাওয়া যাবে এবং সময় মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করা সহজ হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যবস্থা হওয়ায় এ জাতীয় পরিবীক্ষণ কজের জন্য বেশি লোকবলেরও প্রয়োজন হবে না। তবে ব্যবসায়ীরা যাতে প্রকৃত তথ্য সময় মতো পরিবীক্ষণ তথ্যভাণ্ডারে সরবরাহ করে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য প্রচারণামূলক, প্রণোদনামূলক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
দেশে অনেক পণ্যই আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। আমদানিকারকদের সংখ্যা কম হওয়ায় তারা নিজেদের মধ্যে কার্টেল তৈরি করে ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে থাকেন। এটা দূর করতে আমদানিকারকদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মধ্যম পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের নীতিগত ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করতে হবে। আর বৃহৎ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোকে প্রদেয় সুবিধাগুলো ক্রমে কমিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। সামাজিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এতে একাধারে বৈষম্য বৃদ্ধির প্রক্রিয়া কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ে ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটবে; নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। উল্লেখ্য, দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের শিল্প ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোতেই কর্মসংস্থানের পরিমাণ সর্বাধিক।
অনেকে এই জাতীয় পদক্ষেপকে বৈষম্যমূলক বলে অভিযোগ করতে পারেন। তবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অনেক সময় ইতিবাচক বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়ে। একসময় অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে মালয়েশিয়ায় ভূমিপুত্র ও চীনা বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজমান ছিল। ১৯৬৯ সালে এই অসন্তোষের এক বিস্ফোরণ ঘটে; তখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় সরকারি ভাষ্যমতে মৃত্যুবরণ করে ১৯৬ জন, আর বেসরকারি সূত্র অনুযায়ী প্রায় ৬০০ জন। এরপর ১৯৭১ সালে সেদেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন, শান্তি প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূরীকরণ এবং সুযোগের অধিকতর নির্দোষ বণ্টন নিশ্চিত করতে নতুন অর্থনৈতিক নীতি (New Economic Policy) প্রবর্তন করা হয়। এই ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া ভূমিপুত্রদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ পৃথিবীতে যোগ্যতমরাই টিকে থাকে। প্রতিযোগিতা অনেক সময় নিষ্ঠুর হলেও ওটাই যোগ্যতা যাচাইয়ের একমাত্র মাপকাঠি। প্রতিযোগিতার ফলে উদ্ভাবন ত্বরান্বিত হয়, উৎপাদন খরচ কমে যায়, পণ্যের মান উন্নত হয়, ভোক্তা উপকৃত হয়, বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়। আধুনিক বিশ্বে অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রযুক্তি উন্নয়নে প্রতিযোগিতা-সক্ষমতার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অনুন্নত দেশের গণ্ডি থেকে উত্তরণের পর সহসাই এ দেশকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। এজন্য বাজারে গোষ্ঠীতন্ত্রের প্রভাব ও যোগসাজশ প্রতিরোধে ২০১২ সালে প্রতিযোগিতা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কাজেই এখন প্রতিযোগিতার আওতা ও ভিত্তি সম্প্রসারণ করা জরুরি। এ লক্ষ্যে শুধু তেলা মাথায় তেল দেওয়ার নীতি পরিহার করে সম্ভাবনাময় কুশীলবদের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে হবে। অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এ প্রক্রিয়ায় দেশ ও দেশের মানুষ চরম শক্তিশালী অলিগার্কদের নাগপাশ থেকে মুক্তি পেতে পারে। আর সেই সঙ্গে দেশে প্রতিযোগিতা-সক্ষমতার ভিত্তি বেড়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে; তখন সবাই উপকৃত হবে।
লেখক: সাবেক মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর ও কলামিস্ট
rulhanpasha@gmail.com