আপনি যে ধরনের ব্যবসাই করেন না কেন, আপনাকে ব্যবসায়ের ইনকাম স্টেটমেন্ট ও ব্যালান্সশিট সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা বা আর্থিক স্বাস্থ্য জানা মালিকদের জন্য অত্যাবশ্যক। নিজের ব্যবসায় কত নগদ টাকা ঢুকছে আর কত বের হচ্ছে, সেটার পরিষ্কার হিসাব আপনার কাছে থাকতে হবে। অনেকেই ব্যাংকের ঋণকে ক্যাশের ইনফ্লো হিসেবে বিবেচনা করেন যা ভুল ধারণা। ঋণ আপনি ব্যবহার করতে পারবেন সুদের বিনিময়ে, কিন্তু ওটা আপনার প্রকৃত ক্যাশফ্লো নয়। আপনি যখন ব্যবসায়িক ক্যাশফ্লোর ওপর নজর রাখবেন, তখন অযাচিত খরচ, অপচয় কমে যাবে। তবে কোম্পানির সবাইকে বুঝতে হবে, আপনি হিসাবে খুব যতœবান। কোম্পানির ২০ শতাংশ কর্মী আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ; তারা কোম্পানির প্রায় ৮০ শতাংশ উন্নতির কারণ। আপনার উচিত সেই ২০ শতাংশ কর্মীকে মূল্যায়ন করা। তাদের ওপরে কোম্পানির টিকে থাকা নির্ভর করছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সবসময় কোম্পানির প্রতি আন্তরিক করে রাখতে হবে; কারণ, তারা তাদের সামর্থ্যরে পুরোটা দিলে কোম্পানি ভালো করবে। যারা অদক্ষ, তাদের প্রতি কঠোর হতে হবে। কোম্পানিতে করপোরেট গভর্নেন্স চালু করতে হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একই দলকে একই দায়িত্বে দীর্ঘদিন না রেখে টিম লিডার পরিবর্তন করলে টাকার সাশ্রয় হবে। অপচয় ও অব্যবস্থাপনা কমে যাবে। আপনি যাকে বিশ্বাস করে ওই দায়িত্বে রেখেছেন, তার নৈতিকতা যাচাই করা জরুরি। বিক্রয়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ক্ষেত্রেও বেশি জরুরি। আপনার অফিস, ফ্যাক্টরি বা শোরুমের খরচ কমানোর দিকে মনোযোগ দিন। বড় স্পেসের ভাড়া যেমন বেশি, অপব্যবহারও বেশি। আপনার পরিষ্কার করতে খরচ বেশি, লোকবল বেশি লাগে, ইউটিলিটি খরচও বেশি হয়। এদিকে একটু মনোযোগ দিলে অনেক খরচ কমে আসবে। মেইন রোড অফিস স্পেসের দাম অনেক বেশি। এর থেকে একটু ভেতরে গেলে খরচ কমবে। কর্মীদের মাল্টিটাস্কার হতে অনুপ্রাণিত করুন। প্রতিষ্ঠানের কর্মী কমিয়ে আউটসোর্সিং করতে পারবেন। তাতে কাজের গুণগত মানও ভালো হবে, সঙ্গে স্পেস ব্যবহারও কমে যাবে। প্রতিষ্ঠানের খরচ কমাতে হলে অপচয়ের জায়গাগুলো খুঁজে বের করতে হবে। ব্যবসায় সময়কে মূল্যায়ন ও কাজে লাগানো অনেক জরুরি। সময়ের কাজ সময়ে করা যেমন জরুরি, তার চেয়ে বেশি জরুরি স্বল্প সময়ের মধ্যে কাজটা শেষ করে ফেলা। কাজ করতে গিয়ে প্রতি পদক্ষেপে উন্নয়ন করতে পারা। যে কর্মী যত স্বল্প সময়ে নির্ভুলভাবে কাজটা করতে পারেন, সে কর্মী ততটা দক্ষ। যে কোম্পানিতে সময়কে মূল্যায়ন করা হয় না, দক্ষতাকে মূল্যায়ন করা হয় না, সে কোম্পানির উন্নয়নও চোখে পড়ে না। কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ট্রেনিং ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা খুব দরকার। একটি দক্ষ টিমই পারে কোম্পানিকে দক্ষ ও টেকসই করতে। প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে সামনের ব্যবসা। প্রযুক্তি ব্যবহারে যতœবান হোন। আপনার ব্যাংকের সঙ্গে ক্রেডিট লাইন ঠিক করে নিতে হবে। চেষ্টা করতে হবে কত কম খরচে ব্যাংকিং সেবা নেওয়া যায়। মনে রাখতে হবে, এক টাকা বাঁচানো মানে এক টাকা মুনাফা করা। যে ব্যবসায়ী সততা, নিষ্ঠা ও মেধা দিয়ে তার খরচকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ততই ব্যবসা ভালো হবে।