ফাহিম-মাহমুদউল্লাহ বীরত্বে জিতল বরিশাল

বিশ দুগুণে চল্লিশ ওভারের ম্যাচে ৩৫ ওভার শেষেও জয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল দুর্বার রাজশাহীরই। টসে হেরে আগে ব্যাট করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে নবাগত দুর্বার রাজশাহীর সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৯৭ রান। জবাবে ৬১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা বরিশালের সামনে ১৫ ওভার শেষে জয়ের সমীকরণটা ৩০ বলে ৫৮ রান করার, হাতে ৪ উইকেট।

এই সময়ের টি-টোয়েন্টির হিসেবে সমীকরণটা মোটেও কঠিন নয়, বরং খেলার ধরনটাই এমন যে এমন পরিস্থিতিতে ১০ বারের ভেতর ৯ বারই রান তাড়া করা দল জয়ের দেখা পায়। তবে আসরটার নাম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং এখানে রান করাটা সহজ নয়। তাই ১২ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকা ফাহিম আশরাফ আর ১৬ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকা মাহমুদউল্লাহ পরের ৩০ বলে যে অঙ্কটা মিলিয়ে দেবেন, সেটা বোধহয় ডাগআউটের পাশে সোফায় বসে থাকা বরিশালের দল মালিক মিজানুর রহমানও ভাবেননি।

মৃত্যুঞ্জয়ের টানা দুই ওয়াইডে শুরু হলো ১৬তম ওভার, এরপর দুটো বাউন্ডারি, দুটো সিঙ্গেল, একটা ছক্কা আর সিঙ্গেলে ১৯ রান চলে এলো। গতি পেয়ে গেল বরিশালের লঞ্চ, উজান বেয়ে চলতে শুরু করল তরতর করে। পরের ওভার করতে আসা লাহিরু সামারকোনের ওপর চলল চোটপাট। ৩ ছক্কা, ১ চার, একটা ডাবলস আর একটা সিঙ্গেলে ২৫ রান এলো ১৭তম ওভারে। জয়ের সমীকরণ তাতে নেমে আসে ১৮ বলে ১৪ রানে। এরপর আর ঝুঁকি নেয়নি বরিশাল, সহজেই খেলে ম্যাচটাকে নিয়ে গেছে জয়ের দোরগোড়ায়। মৃত্যুঞ্জয়ের করা ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ফাহিম আশরাফের বিশাল ছক্কা গেছে স্টেডিয়ামের বাইরে। তাতেই গেম-সেট-ম্যাচ। বরিশাল জিতেছে ১১ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে, ফাহিম আশরাফের হাফসেঞ্চুরি হয়েছে, ৪৮ থেকে পৌঁছে গেছেন ৫৪*তে আর বরিশালের রান হয়েছে ৬ উইকেটে ২০০।

আসরের প্রথম ম্যাচ, বিপিএলের ইতিহাস, সব মিলিয়ে শুরুতে সাবধানী ব্যাটিংই করছিল দুর্বার রাজশাহী। জিশান আলম ও মোহাম্মদ হারিস অল্পতেই আউট হওয়ার পর তৃতীয় উইকেটে এনামুল হক বিজয় ও ইয়াসির আলি রাব্বির ৮৭ বলে ১৪০ রানের জুটিটাই রাজশাহীকে পৌঁছে দেয় ভালো সংগ্রহের কক্ষপথে। বিজয় ৫১ বলে করেছেন ৬৫ রান, ৪টা বাউন্ডারি আর ৫ ছক্কা। ৯ বলেই তার ৪৬ রান, বাকি ৪২ বলে নিয়েছেন ১৯। এখানেই রাজশাহীর সংগ্রহটা কমে গেছে। ম্যাচের পর বরিশালের ফাহিম আশরাফও এটাই বোঝালেন যে ভালো উইকেটে রান কিছুটা কমই করেছে রাজশাহী। বিজয়ও বলেছেন ১৬০ রানের জন্যই তারা ব্যাট করছিলেন, শেষদিকে রাব্বির ভালো ব্যাটিংয়ে রানটা দুইশোর কাছাকাছি গেছে।

রানটা বাঁচাতে ভালোই লড়ছিল রাজশাহী, ৮.১ ওভারেই তারা তুলে নেয় বরিশালের ৫ উইকেট। তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, তাওহীদ হৃদয়, কাইল মেয়ার্স... সবাই আউট হয়ে ডাগআউটে। দলীয় রান মাত্র ৬১। এমন সময় শাহিন শাহ আফ্রিদি এলেন ব্যাট হাতে। ১৭ বলে ২৭ রানের কার্যকর একটা ইনিংস যাতে ৩টা ছক্কা। তাতেই হাওয়াটা ঘুরে গেল বরিশালের দিকে। একপ্রান্তে মাহমুদউল্লাহ খেললেন ২৬ বলে ৫৬ রানের ইনিংস। তবে মূল কাজটা করেছেন ফাহিম আশরাফ। বিগব্যাশ, গ্লোবাল সুপার লিগ, চ্যাম্পিয়নস টি২০ কাপ; টানা খেলার মধ্যে থাকা এই অলরাউন্ডার বছর জুড়েই এমন পরিস্থিতিতে ব্যাট করেন। হিসাবটা মিলিয়ে দিলেন অনায়াসে। ২১ বলে ৫৪ রানের ইনিংসে ৭টা ছক্কা, শেষটা তো গেছে মাঠের বাইরে! ফাহিম আশরাফের ছক্কা বৃষ্টিতেই দুর্বার রাজশাহীর অঘটনের স্বপ্ন ভাঙল। ৪ উইকেটে পাওয়া জয়ে ফরচুন বরিশাল শুরু করল চ্যাম্পিয়নের মতোই।