রংপুরের দ্বিতীয়

দিনের আলো কমে আসতেই বদলে গেল উইকেটের চরিত্র। ব্যবহৃত পিচে শিশিরের ছোঁয়ায় বল স্কিড করছিল, অধিকাংশ বলই আসছিল নিচু হয়ে। ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলে দুই দলই দেখাল পেস আক্রমণের দুর্দান্ত প্রদর্শনী। বিপরীতে কেবল নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটেই উঠল ঝড়। ম্যাচ জেতার তেমন কোনো চেষ্টা না করা সিলেট স্ট্রাইকার্সকে ৩৪ রানে হারিয়ে আসরে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল রংপুর রাইডার্স। ৪ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের নায়ক নাহিদ রানা।

মিরপুর শেরেবাংলায় টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে রংপুর রাইডার্স। বল হাতে আগ্রাসী হয়ে ওঠেন দুই পেসার তানজিম সাকিব আর আল-আমিন হোসেন। এই দুজনেই ধসিয়ে দেন রংপুরের টপ অর্ডার। দুই বিদেশি ওপেনার স্টিভেন টেইলর ১২ আর অ্যালেক্স হেলস ফেরেন ৬ রানে। তিনে নেমে সাইফ হাসান করেন ৪ রান। মাত্র ২৮ রানে ৩ উইকেট পতনের পর দুই পাকিস্তানি ইফতিখার আহমেদ আর খুশদিল শাহর ৩৮ বলে ৪১ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় রংপুর। ৪২ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন ইফতিখার। এরপর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে তার পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে ৪১ বলে ৬৫ রান। ২৪ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন সোহান। শেষদিকে ৮ বলে অপরাজিত ১৬ রান করা শেখ মাহেদীর অবদানও কম নয়। সিলেটের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন তানজিম সাকিব এবং আল আমিন হোসেন।

রান তাড়ায় নেমে রংপুর পেসারদের তোপের মুখে পড়ে সিলেটের ব্যাটাররা। বিশেষ করে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন হালের পেস সেনসেশন নাহিদ রানা। স্কটিশ ওপেনার জর্জ মুনসি (২), জাকির হাসান (১৮) আর পল স্টার্লিং (৬) দ্রুত ফিরলে ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারায় সিলেট। অবশ্য সিলেটের ব্যাটারদের কাছে জয়ের চেয়ে উইকেটে টিকে থাকাটাই যেন বড় বিষয় মনে হয়েছে। রনি তালুকদার এবং জাকের আলি ৪৮ রানের জুটি গড়লেও খরচ করেন ৫৬ বল, যা মোটেও টি-টোয়েন্টিসুলভ নয়। বিশেষ করে জাকের অবিশ্বাস্য ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ৩৩ বলে ২৪ করেন। রনি করেন ৩৬ বলে ৪১ রান। শেষ ৬ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৬৫ রানের। কিন্তু তাদের ধীরগতির ব্যাটিং সিলেটের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। পঞ্চদশ ওভারের প্রথম দুই বলে রনি আর আরিফুলকে (০) ফেরালেও বছরের শেষ দিনে হ্যাটট্রিক হয়নি খুশদিলের। তৃতীয় বলে আম্পায়ারের এলবিডাব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত বদলে যায় রিভিউয়ে। শেষ পর্যন্ত সিলেট ৯ উইকেটে ১২১ রান পর্যন্ত তুলতে পেরেছে। ২৭ রানে ৪ উইকেট নেন নাহিদ রানা। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতেই।