অনেক আশা করেই কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে একপ্রকার ভাগিয়ে গৌতম গম্ভীরকে জাতীয় দলের কোচ করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। কিন্তু গম্ভীর যুগে দলের পারফর্মেন্স মোটেও সুবিধার নয়। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও দল আছে সিরিজ হারের ঝুঁকিতে। জানা গেছে, দলের পারফর্মেন্সের উন্নতি না হলে চাকরি যেতে পারে গম্ভীরের।
বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজে আর একটি টেস্ট বাকি। সিডনিতে জিততে না পারলে ভারত সিরিজ হারবে এবং তাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। গম্ভীরের কোচিংয়ে শেষ ৭টি টেস্টের মধ্যে ৫টি হেরেছে ভারত, ড্র হয়েছে একটি। মেলবোর্ন টেস্টের পর নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেন, “সামনে সিডনি টেস্ট আছে, এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। দল ভালো না খেললে গম্ভীরের জায়গাও সুরক্ষিত নয়।’
রাহুল দ্রাবিড় কোচের পদ ছাড়ার পরে গম্ভীরকে কোচ করা হয়েছিল। একজন নতুন কোচকে তো সময় দিতেই হবে। তাহলে কেন শুরু থেকেই গম্ভীরকে আতশ কাঁচের নিচে রাখা হয়েছে? জবাবে বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা দেন চমকপ্রদ তথ্য, ‘গম্ভীর কখনই আমাদের প্রথম পছন্দ ছিল না। প্রথম পছন্দ ছিল লক্ষ্মণ (ভিভিএস লক্ষ্মণ)। বেশ কয়েকজন বিদেশি কোচের সঙ্গেও কথা হয়েছিল। কিন্তু তারা কেউ তিন ফরম্যাটে কোচ হতে চাননি। সেই কারণে বাধ্য হয়ে গম্ভীরকে কোচ করা হয়েছে।’
দলের ব্যর্থতায় গম্ভীরের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ক্রিকেটার হিসাবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে গম্ভীরের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। অস্ট্রেলিয়ায় ৪ টেস্ট খেলে এক ফিফটি আর ২২.৬৩ গড়ে গম্ভীর করেছেন ১৮১ রান। ইংল্যান্ডে পাঁচ টেস্টে ১২.৭০ গড়ে করেছেন ১২৭ রান। এরকম অভিজ্ঞতা থাকা একজনকে ভারতের কোচ করা উচিত হয়নি বলে মনে করেন দেশটির সাবেক এক ক্রিকেটার।
পিটিআইকে ৯০টির বেশি টেস্ট খেলা ওই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘গম্ভীর ক্যারিয়ারে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে অফ স্টাম্পের বল শুধু পিছনের দিকে খেলার চেষ্টা করেছে। তার তো অন্তত জানা উচিত কোহলির কোথায় সমস্যা হচ্ছে। সেটা যদি জানর তাহলে তার উচিত ছিল কোহলিকে সমাধানের পথ দেখানো। সেটাও গম্ভীর পারছে না। সে দলের কোচ হওয়ার যোগ্য নয়।’