কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন না, এই কথাটা বলার পাশাপাশি তাসকিন আহমেদ বুঝিয়ে দিয়েছেন ভাগ্যের ওপর তার বিশ্বাস জোরালো। কয়েকবারই বলেছেন, ফাইফার (ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট) পেতে ভালো বোলিংয়ের পাশাপাশি ভাগ্যও লাগে। বৃহস্পতিবার মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ভাগ্যের ছোঁয়া ভালোভাবেই পেয়েছেন তাসকিন। ঘন কুয়াশায় দুপুর ১টার ম্যাচও শুরু হয়েছে ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে, এমন ম্যাচেও কি ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক থিসারা পেরেরা টস জিতে নিলেন বোলিং! মাসের দ্বিতীয় দিনে, ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে পাওয়া তাসকিন দ্বিতীয় বলেই আউট করলেন লিটন দাসকে। তখনই তাসকিন বুঝে গিয়েছিলেন, দিনটা তার। ১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন, ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার আর বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এক ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন, তার দল দুর্বার রাজশাহীও জিতেছে ৭ উইকেটে।
ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও বোলিং ভালো করেছিলেন তাসকিন, তবে দলকে জেতাতে পারেননি। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে অন্তত সেই আক্ষেপ নেই। সাত উইকেট পাওয়ার প্রসঙ্গে তাসকিন রসিকতা করেই বলছিলেন, ‘আমাদের দলের ম্যাসিউর আনোয়ার খেলার আগে বলছিল যে আমি চার উইকেট পাব। আমি বললাম, “আল্লাহর কাছে চাইলে কম চাইব কেন, ৪ নয় ৮ উইকেট পাব এই দোয়া করিস।” এরপর সাত উইকেট পেয়ে গেলাম। আমি আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, দল জিতেছে। ভালো লাগছে।’ ইনিংসের শেষ বলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ইয়র্কারও দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সময়মতো ব্যাট নামিয়ে ফেলায় ৮ নম্বর উইকেটটা আর পাওয়া হয়নি তাসকিনের। এ প্রসঙ্গে বললেন, ‘লোভে যাইনি, হাফভলি হলে চার হয়ে যেতে পারত। আমি একটা একটা করে বল নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, পরিস্থিতি অনুযায়ী কী করতে হবে সেটা স্পষ্ট ছিল মাথায়। যখনই অধিনায়ক আমার হাতে বল তুলে দিয়েছে আমি ব্রেক থ্রু দিতে পেরেছি, ভালো লাগছে আলহামদুলিল্লাহ।’
সাতটা উইকেটের প্রতিটিই অমূল্য, তবে দিনের প্রথম শিকার লিটন দাসের উইকেটটা নিয়েই তাসকিনের পরিতৃপ্তি ছিল সবচাইতে বেশি, ‘প্রথম উইকেটটা, যেটায় লিটন আউট হলো, আনপ্লেয়েবল ডেলিভারি ছিল, যেকোনো ব্যাটসম্যানেরই ওখানে ব্যাট দিতে হইত এবং (এজ) নিয়ে গেসে। এ রকম উইকেটে ক্যারি করলে ফাস্ট বোলারদের একটা বাড়তি বুস্টআপ হয়। সব উইকেটই গুরুত্বপূর্ণ, তবে প্রথম উইকেটটা একটু বেশি।’ জাতীয় দলে সতীর্থ লিটন টানা খারাপ করেই চলেছেন, তাকে শূন্য রানে আউট করায় কিছুটা মনও খারাপ হলো কি না এমন প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, (লিটনের ব্যাডপ্যাচ) এটা ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের বিশ্বাস আছে, কারণ খারাপ তো শেষ হবেই একসময়।
খারাপ সময় দেখেছেন তাসকিনও। চোট, দল থেকে বাদ পড়া। বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটির অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফিরেছেন, ২০১৯ বিশ্বকাপের দলে সুযোগ না পেয়ে কেঁদেছেন প্রকাশ্যে। সেই খারাপ সময়কে পেছনে ফেলে পরিশ্রমকে সঙ্গী করেই ছুটছেন তাসকিন। এ যাত্রায় সহযাত্রী হয়েছে সৌভাগ্যও।