জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী উজ্জ্বল মাহমুদকে (২৮) মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলার অন্য ১২ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে-১-এর বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি উজ্জ্বল মাহমুদ সদর উপজেলার মেস্টা ইউনিয়নের দেউলিয়াবাড়ী গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে। স্ত্রী তাহমিনা জান্নাত (২২) মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি ইউনিয়নের দিঘলকান্দি গ্রামের ইব্রাহিম খলিলের মেয়ে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে উজ্জ্বল মাহমুদের সঙ্গে তাহমিনা জান্নাতের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাহমিনাকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতে থাকেন স্বামী উজ্জ্বল। বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় উজ্জ্বলের কাছে যৌতুক ছাড়া সংসার করার জন্য অনুরোধ করেন তাহমিনা। একপর্যায়ে তাহমিনা অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন উজ্জ্বল। এর কিছুদিন পর আবারও ৫ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দেন তিনি। তাহমিনা সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে উজ্জ্বল তার নাকে, মুখে, বুকে এলোপাতাড়ি কিলঘুসিসহ বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনার পর নিহতের বাবা ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় আসামি উজ্জ্বল মাহমুদকে গতকাল মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয় আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডেরও আদেশ দেয়।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১) ফজলুল হক বলেন, ‘হত্যা মামলায় বিজ্ঞ আদালত আসামি উজ্জ্বল মাহমুদকে মৃত্যুদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডের আদেশ প্রদান করেছে।’