অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে জামালপুর শহরের ছনকান্দা পুরনো ফেরিঘাট এলাকার পৌর বাস টার্মিনাল। প্রায় দুই একর জমির ওপর নির্মিত এই বাস টার্মিনালটি ১৫ বছর ধরে ব্যবহারের আওতায় আনা হয়নি। শুরুর পর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পরিবহনগুলোকে এখানে নিলেও কিছুদিনের মাথায় সেগুলো ফের শহরের মধ্যে চলে যায়। ফলে তীব্র যানজটের শহরে পরিণত হয় জামালপুর। এদিকে পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিয়ম অমান্য করে টার্মিনালের বাইরে কাউন্টার করেছে। ফলে টার্মিনালে কোনো যাত্রীর দেখা মেলে না। মূলত মালিক সমিতি ও রাজনৈতিক নেতাদের কারণে টার্মিনাল ব্যবহার হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পৌরসভার কার্যালয় সূত্র জানায়, শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৯ সালের ১৫ অক্টোবর জামালপুর পৌরসভার বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। টার্মিনাল নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হিসেবে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক, বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং জামালপুর পৌরসভা কাজটি করেন। নির্মাণকাজে ৬১ লাখ ২৭ হাজার ১২৫ টাকা ব্যয় হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ঠিকাদার সোহরাব হোসেন বাবুল নির্মাণ কাজটি করেন। পরে ২০০১ সালের ২৫ অক্টোবর নির্মাণকাজ শেষ হয়। ২০০২ সালে টার্মিনালের আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হলে ২০০৯ সাল তা বন্ধ হয়ে যায়। বাস চলাচল না করলেও প্রতি বছর ইজারা হয় টার্মিনাল। এ বছর ছানোয়ার হোসেন ছানু নামে এক ইজারাদার ৭২ হাজার টাকায় টার্মিনালটি ইজারা নিয়েছেন।
টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীশূন্য গোটা টার্মিনাল খাঁ খাঁ করছে। বাস টার্মিনাল হলেও যাত্রীর কোনো দেখা নেই। ভেতরে বাসের কাউন্টার ও গাড়ি রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলেও বাসগুলো থাকে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের ওপর। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরাও সেই সড়ক থেকেই গাড়িতে ওঠেন। পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিয়ম অমান্য করে টার্মিনালের বাইরে কাউন্টার করেছে। পৌরসভার টার্মিনালে পড়ে আছে কয়েকটি বাস ও দু-তিনটি ট্রাক। ভবনের প্রতিটি গেটে তালা ঝুলছে। ভেতরে ময়লা-আবর্জনা ও পানি জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া টার্মিনাল ভবনের বেশ কিছু জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ২৩ বছর আগে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর রজনীগন্ধা, যমুনা, মুক্তিসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির বাস চলাচল করেছে। তারপর মালিক সমিতি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের স্বার্থের কারণে বাস চলাচলে বন্ধ হয়ে যায়। সুন্দর এই টার্মিনাল রেখে ভাড়া জায়গা থেকে বাস যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। সেখানে উপায় না থাকায় মাঝে মাঝে দু-চারটি বাস টার্মিনালে রাখা হয়। মালিক সমিতি ও রাজনৈতিক নেতারা তাদের নিজস্ব লোকের নামে ওই টার্মিনাল ইজারা নেন। কিন্তু সেখান থেকে বাস যাতায়াত করে না।
টার্মিনাল এলাকার স্বপন মিয়া জানান, টার্মিনালের সবকিছু বেশ সুন্দর ও পরিপাটি ছিল। তবে ব্যবহার না হওয়ায় এখন ভেতরের অবস্থা খুবই করুণ। দিনভর চলে মাদককারবারি আর মাদকসেবীদের বিচরণ।
বাসচালক সুমন মিয়া ও শাহীন মিয়া বলেন, সড়কে বাস রাখার জায়গা নেই। রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রী বসার ও পরিবহন শ্রমিকদের বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবুও মালিক সমিতি টার্মিনাল রেখে সড়ক থেকেই বাস যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করছে।
জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ বলেন, ‘টার্মিনাল সংস্কারের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। সংস্কার করে দিলে আমরা ফের টার্মিনালে ফিরে যাব।’ এ প্রসঙ্গে জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘যানজট ও সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই শহরের একটু দূরে প্রধান সড়কের পাশেই টার্মিনাল করা হয়। নির্মাণের পর সেখান থেকে বাস যাতায়াত করে। পরে ২০০৯ সালের দিকে তা বন্ধ হয়ে যায়। বাস মালিকদের অসহযোগিতার কারণে টার্মিনালটি আর চালু করা যায়নি। তবে খুব দ্রুত টার্মিনাল চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’