উন্নয়ন প্রকল্প নাকি গণহত্যা

ভারতের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ গ্রেট নিকোবর। মূল ভূখণ্ডের সীমান্ত এলাকা থেকে ৮০০ মাইল দূরে ভারত সাগরে অবস্থিত দ্বীপটি মূলত বনভূমি অধ্যুষিত। বিপুল জীববৈচিত্র্যের আধার ৯০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপটিতে মোটামুটি আট হাজার মানুষের বসবাস। দ্বীপে দুটি আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাস। এর একটি শোমপেন ও অন্যটিকে নিকোবারি বলে চেনা হয়। ভৌগোলিক ও সভ্যতাগত বিচ্ছিন্নতার কারণে দ্বীপের আদিবাসী নৃগোষ্ঠীগুলো বেশ সংবেদনশীল। পরিবেশবাদী এবং নৃবিজ্ঞানীরা বলেছেন, অপরাপর সভ্যতার সংস্পর্শে দ্বীপের জনগোষ্ঠীকে নতুন রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এমনকি এর ফলে তাদের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তা সত্ত্বেও ভারত সরকার সম্প্রতি দ্বীপটিতে ৯ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে। নৃবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ প্রকল্প স্থানীয় শিকারি নৃগোষ্ঠী শোমপেনের জন্য গণহত্যার নামান্তর। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপে ‘হংকং ইন ইনডিয়া’ নামে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় দ্বীপটিকে পর্যটনের উপযোগী করার পাশাপাশি এতে জাহাজ বন্দর, বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি এমনকি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের জন্য দ্বীপের সাড়ে আট লাখ গাছ কাটার অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। বন্দরটি ২০২৮ সালের মধ্যে তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শোমপেন নৃগোষ্ঠী অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এমনকি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি মারাত্মক অপরাধের শামিল। এ ছাড়া এই প্রকল্প দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। গত বুধবার ১৩টি দেশের ৩৯ জন গবেষক এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মুকে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন।

গ্রেট নিকোবার আইল্যান্ডে বসবাসরত শোমপেন নৃগোষ্ঠীর জনসংখ্যা মোটামুটি ৪০০ জন। বাকিরা নিকোবারি নৃগোষ্ঠীর। নিকোবারিদের বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও তাদের নিজস্ব জীবনযাপনের ওপর বিশাল এ উন্নয়ন প্রকল্পের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মানবাধিকার গোষ্ঠী সার্ভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল বলছে, আদিবাসীদের জন্য এ প্রকল্প বিপর্যয় ডেকে আনবে। বনাঞ্চল ধ্বংস হলে তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। গত বছর প্রকল্পটির বিরোধিতা করে দেশটির অন্তত ৭০ জন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, এটি দ্বীপের বাস্তুসংস্থান এবং সংবেদনশীল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল প্রায় ধ্বংস করবে।