বছর দুই আগে, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলতে এসেছিলেন উসমান খান। সেবার খেলেছিলেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে। খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ম্যাচ। সেই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে খুলনার হয়ে সেঞ্চুরি করলেন আজম খান, বিপিএলের সেই আসরের প্রথম সেঞ্চুরি। রানতাড়ায় উসমানও করলেন সেঞ্চুরি, ৫৮ বলে ১০৩*। দল জিতল, উসমান ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেলেন। কিন্তু বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরির কৃতিত্বটা থেকে যায় বন্ধু ও ঘরোয়া ক্রিকেটের সতীর্থ আজম খানেরই।
এবারের বিপিএলে খেলতে আসা উসমানের চারপাশের পৃথিবীটা বদলে গেলেও, বদলায়নি ব্যাটিংয়ের ধরনটা। এবারে উসমানের সেঞ্চুরি চিটাগং কিংসের হয়ে, দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে। তার ৬২ বলে ১২৩ রানের ইনিংসে কিংস করেছে আসরের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস, ৫ উইকেটে ২১৯ রান। পেয়েছে আসরের প্রথম জয়, যা রানের অঙ্কে বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়।
বছর তিনেক আগে, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে খেলতে আসা উসমানের কথা হয়েছিল ঢাকার এক হোটেলে। তখনো উসমানের গায়ে পাকিস্তান জাতীয় দলের জার্সি ওঠেনি। সেই স্বপ্ন তার কাছে মনে হয়েছিল দূরের বাতিঘর। করাচির এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান উসমানের জন্য ক্রিকেট খেলাটা ছিল বিলাসিতা। এক সময় মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে একই ক্লাবে খেলা উসমান জাতীয় দলের ত্রিসীমানাতেও না থাকায় সিদ্ধান্ত নেন আরব আমিরাতে পাড়ি জমাবার।
সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ প্রকৌশল সংস্থায় কাজ করে দেশে পরিবারকে টাকা পাঠাতেন আর সপ্তাহান্তে ক্রিকেট খেলতেন। লক্ষ্য ছিল আরব আমিরাতের হয়ে ক্রিকেট খেলার। আবুধাবির টি-টেন এবং ইন্ট্যারন্যাশনাল লিগ টি-২০তে উসমান খেলেছিলেন আমিরাতের স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে, এমনকি পাকিস্তান সুপার লিগে খেলেন ভিনদেশি ক্রিকেটার হিসেবে! পিএসএলের ২০২৩-২৪ মৌসুমে উসমান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন, দুটো সেঞ্চুরিসহ ৪৩০ রান করেন মাত্র ৭ ইনিংসে। এরপরই পাকিস্তান তাকে একটি অনুশীলন ক্যাম্পে ডাকে, উসমান সেই ডাক উপেক্ষা করেননি। এরপর আমিরাত তাকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। তবে একটা দরজা বন্ধ হলেও অন্য দরজা খুলে যায়, উসমান পাকিস্তানের হয়ে এই বছর খেলেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।
চিটাগং কিংসের হয়ে প্রথম ম্যাচেও আউট হয়ে যান ১৮ রানে। তবে পরের ম্যাচটায় এসে ঠিকই নিজেকে খুঁজে পেলেন উসমান। উসমানের সমস্যা হচ্ছে ধারাবাহিকতার অভাব। চট্টগ্রামের হয়ে খেলতে এসে একটা সেঞ্চুরি আর একটা হাফসেঞ্চুরির পরেও ১১ ইনিংসে ২৯৬ রান করেছিলেন, গড় ৩০ এর নিচে। এবার উসমান কি পারবেন সেই অপবাদটা ঘোচাতে? কারণ উসমানের ব্যাটিং বাদে চিটাগং কিংসের ভান্ডারে যে খুব বেশি কিছু নেই।