দুর্বল চট্টগ্রাম আবাহনী প্রতিরোধ গড়ে তুলল প্রথমার্ধে। ২২ মিনিটে দশজনের দলে রূপ নেওয়ায় খুব মনে হচ্ছিল বাজে দিন বোধহয় এসে গেল মোহামেডানের জন্য। তবে চট্টগ্রামের দলটির সব প্রতিরোধ উবে গেল দ্বিতীয়ার্ধে। সৌরভ দেওয়ান, আর্নেস্ট বোয়েটাং, ইম্যানুয়েল সানডেরা আক্রমণের সুনামি তুলে ম্যাচটা জিতে নিল ৫-১ গোলে। যে জয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অটুট থাকল সাদা-কালোদের অজেয় যাত্রা। ছয় ম্যাচে শতভাগ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানটা পাকাপোক্ত করেছে আলফাজ আহমেদের শিষ্যরা। লিগের ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তাদের নিচে আছে রহমতগঞ্জ। ঢাকা আবাহনী ১৩ পয়েন্টে তিনে। আর ব্রাদার্স ১১ পয়েন্ট নিয়ে চারে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এই রাউন্ডে জয় পেলেও আছে বিপাকে। ১০ পয়েন্ট নিয়ে তারা পাঁচে।
প্রথমার্ধে মোহামেডান গোল না পাওয়ায় অধিনায়ক সুলেমান দিয়াবাতের অনুপস্থিতিটা ভালোই অনুভূত হচ্ছিল। যদিও মালির ফরোয়ার্ডকে ভুলিয়ে রাখতে বাকিদের চেষ্টার কমতি ছিল না। ম্যাচের ১৪ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীর কিপার নাঈমের দৃঢ়তায় গোলবঞ্চিত হতে হয় মোজাফফরভকে। বক্সের বাইরে থেকে এই উজবেক প্লে-মেকার দারুণ ফ্রি-কিক নিয়েছিলেন। যা কর্নারের বিনিময়ে ফেরান চট্টগ্রাম আবাহনী কিপার। ম্যাচের ২২ মিনিটে দশজনের দলে পরিণত হয় মোহামেডান। চট্টগ্রাম আবাহনীর অনিক ঘোষকে বাজে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় মোহামেডানের ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুকে। এরপর খেলা কিছুটা মন্থর হয়। বিরতির পর অবশ্য সেটা থাকেনি। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে কাক্সিক্ষত লিড পায় মোহামেডান। বাঁদিক থেকে মোজাফফরভের কর্নারে বুর্কিনা ফাসোর ডিফেন্ডার মৌনজিক কলিদিয়াতি অনেকটা লাফিয়ে উঠে হেডে পরাস্ত করেন চট্টগ্রাম আবাহনী কিপারকে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ইমান্যুয়েল সানডে। ডান দিক থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে গোলমুখে আড়াআড়ি বল ফেলেন আরিফ। তাতে সানডের প্লেসিং জালে জড়ায়। ৫৯ মিনিটে কলিয়াদিতির স্কয়ার পাসে সৌরভ দেওয়ানের প্লেসিং পোস্টে লেগে ফিরলে হতাশ হতে হয় মোহামেডানকে। ৬৩ মিনিটে অবশ্য ঠিকই গোলের দেখা পান সৌরভ। যদিও এই গোলটা পেতে পারতেন আর্নেস্ট বোয়েটাং। অফসাইড ফাঁদ ভেঙে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে একা পেয়ে যান চট্টগ্রাম আবাহনী কিপার নাঈমকে। তবে তার বাঁ পায়ের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সৌরভ অবশ্য ফিরতি বল পোস্টে রাখতে ভুল করেননি। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মোহামেডানকে আত্মঘাতী গোল উপহার দেন চট্টগ্রাম ডিফেন্ডার সেলিম রেজা। সৌরভ দেওয়ানের পাস পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা ইমানুয়েল সানডে গোলমুখে বল ঠেলেছিলেন। তবে সেটা ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন সেলিম। ৮৬ মিনিটে সৌরভকে দ্বিতীয় গোল থেকে বঞ্চিত করেন নাঈম। একাই বল নিয়ে বক্সে ঢুকে শট নিয়েছিলেন সৌরভ। তবে আগুয়ান নাঈম শেষ মুহূর্তে রুখে দেন। তবে চার মিনিট পর ঠিকই ৫-০ করেন সৌরভ। আরিফের স্কয়ার পাস সেলিম ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি, সৌরভ সুযোগ বুঝে দ্বিতীয় গোলের স্বাদ নেন।
পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে বক্সের ভেতরে মোহামেডান ডিফেন্ডার রাজিব হোসেনের হ্যান্ডবল হলে পেনাল্টি পায় চট্টগ্রাম আবাহনী। যা থেকে গোল করে হারের ব্যবধান কমান ইমতিয়াজ সুলতান জিতু।