খুলনার চমক রংপুরের ঝলক

শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ঢাকার প্রথম পর্ব। ৪ দিনে মাঠে গড়িয়েছে ৮ ম্যাচ। বিসিবি প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশনা মেনে গামিনি ডি সিলভা বানিয়েছেন ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। তাতে রান হয়েছে বিস্তর। শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে শেষের দুই দিন ফিল্ডারদের একটু অসুবিধা হয়েছে বল দেখতে, রাতের ম্যাচে রানও হয়েছে একটু কম। তবে সব মিলিয়ে উপভোগ্য ম্যাচ দেখা গেছে ঢাকার প্রথম পর্বে। টিকিট নিয়ে তুলকালাম কা- বাদ দিলে বিপিএলের ঢাকা পর্ব কেটেছে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ছাড়াই, বিপিএলের মতো আসরে যা বিরল। যদিও ছোটখাটো বেশ কিছু সমস্যা দেখা গেছে, চিটাগং কিংস দলের প্যাড ও হেলমেট না আসায় তারা নিজস্ব সরঞ্জামে দলের জার্সির রঙ মিলিয়ে গোলাপি কাপড় পেঁচিয়েছেন। খেলোয়াড়রা এখনো প্রতিশ্রুতির ৫০ ভাগ পারিশ্রমিক পাননি, তবে তাদের আশা বিসিবি ব্যাপারটা দেখবে।

রাজধানী ঢাকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ঢাকা ক্যাপিটালসের। নাম্বার ওয়ান সাকিব খানের দল এখনো একটি পয়েন্টও পায়নি, ৩ ম্যাচ খেলে ৩টাতেই হার। কোটি টাকার থিম সংয়ের মিউজিক ভিডিওতে নায়ক-নায়িকা হাজির করলেও মাঠের একাদশে ঢাকা জড়ো করেছে অজ্ঞাতনামা সব বিদেশিদের। স্টিফেন এসকেনাজি, শুভম রঞ্জন; এই দুজনের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের লিগে খেলা থিসারা পেরেরা আর ৭ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলা চতুরঙ্গা ডি সিলভা। লিটন দাসের ফর্ম নেই আর ধারহীন মোস্তাফিজুর রহমান। এসবের সম্মিলিত যোগফল ৩ ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের ৩ হার। ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন গত মৌসুমে দুর্দান্ত ঢাকার ডাগআউটে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন টানা ১১ হার, এরপর জার্সি বদলালেও ঢাকার ভাগ্য বদলায়নি। এবারও টানা ৩ হারে সুজন বিপিএলে দেখলেন টানা ১৪ হার।

চমক দেখিয়েছে খুলনা টাইগার্স। কাগজে-কলমে দলটা খুব শক্তিশালী না হলেও মাঠে দলটার পারফরম্যান্স চমক জাগানিয়া। ২ ম্যাচে ২ জয় খুলনার। বিদেশি একাদশে মাত্র ৩ জন; উইল বোসিস্টো, মোহাম্মদ নাওয়াজ ও ইব্রাহিম জাদরান। তাদের ভেতর বোসিস্টো প্রথম ম্যাচে করেছেন ৭৫ঁ* পরের ম্যাচে ২৬। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করেছেন প্রথম ম্যাচে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যাটিং বোলিং সব দিকেই অবদান রাখছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম, এই দুই দলের বিপক্ষে জিতেছে খুলনা। চিটাগাং কিংসের বিপক্ষে তারা জিতেছে ৩৭ রানে, ঢাকার বিপক্ষে ২০ রানে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংটাও কার্যকর খুলনার। আবু হায়দার রনিকে তারা কাজে লাগাচ্ছে দারুণভাবে। এই পেসারের এখন পর্যন্ত ৬ উইকেট, মেহেদী মিরাজের শিকার ৪। সব মিলিয়ে তারকার দ্যুতি না থাকলেও কার্যকর সমন্বয় আর দেশীয় ক্রিকেটারদের ভালো পারফরম্যান্স খুলনাকে এগিয়ে রেখেছে।

বসুন্ধরা গ্রুপের হাতে মালিকানা যাওয়ার পর সবসময়ই শক্তিশালী দল গড়ে রংপুর রাইডার্স। গ্লোবাল সুপার লিগ জিতে আসা ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিপিএলেও ৩ ম্যাচে ৩ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে আছে শীর্ষে। কোচ মিকি আর্থার আর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান মিলে দলটা সাজানো এবং চালানো দুটোই করেছেন দারুণ। চমক দেখিয়েছেন সাইফ হাসান, প্রথম ম্যাচে ৪০ আর তৃতীয় ম্যাচে ৬২*। টেস্ট ওপেনার সাইফের এই পরিবর্তন সত্যিই বিস্ময়কর। শেখ মেহেদি হাসান ৩ ম্যাচে নিয়েছেন ৭ উইকেট। বিদেশি ওপেনার অ্যালেক্স হেলস আর স্টিফেন টেলর আছেন, দুই পাকিস্তানি ইফতিখার আহমেদ ও খুশদিল শাহও আছেন, তবে রংপুরকে এগিয়ে দিয়েছেন আসলে নাহিদ রানা আর সাইফ। সাইফের ব্যাটের পাশাপাশি নাহিদ রানার বোলিং, শুধু উইকেট সংখ্যায় নয় গতিতে ভয় ধরিয়ে এখন পর্যন্ত ৬ উইকেট নেওয়া নাহিদ রানার ঝলকে রংপুর রাইডার্স আছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।

সিলেট স্ট্রাইকার্স ঢাকা পর্বে খেলেছে একটিই ম্যাচ, সেটায় তারা হেরেছে বড় ব্যবধানে। ব্যাটিং বা বোলিং কোনো বিভাগেই তারা দাগ কাটতে পারেনি। সিলেটে নিজেদের দর্শকদের সামনে তারা খেলবেন ৫ ম্যাচ। এই ৫ ম্যাচে ভালো করলেই তারা এগিয়ে থাকবেন শেষ চারের দৌড়ে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বরিশালের ২ ম্যাচে ১ জয় ১ হার। দেশের তারকা সব ব্যাটসম্যানদের নিয়ে দল গড়লেও বরিশালের টপ অর্ডার হতাশ করেছে দুই ম্যাচেই। প্রথম ম্যাচে লোয়ার অর্ডারে মাহমুদউল্লাহ আর ফাহিম আশরাফের ব্যাট তাদের জেতালেও রংপুরের বিপক্ষে তাদের ব্যাটিং অর্ডার ভেঙে পড়েছে তাসের ঘরের মতোই।

চিটাগং কিংসের উসমান খানের সেঞ্চুরিতে দল ম্যাচ জিতেছে, কিন্তু থিসারা পেরেরার সেঞ্চুরিতেও জেতেনি ঢাকা। তাসকিন আহমেদ দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ঢাকার বিপক্ষে নিয়েছেন ৭ উইকেট, ৩ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ১২। তবে দল তিন ম্যাচে জিতেছে মাত্র একটি আর হার দুই ম্যাচে। সিলেট পর্বে দুর্বার যদি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে শেষ চারের সমীকরণ থেকে তারা ছিটকে যাবে বহুদূর।