রোহিত-কোহলি ‘ফ্লপ’ বুমরা-অজিরা ‘হিট’

অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে ভারতের হয়ে নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন সিডনি টেস্টে ভারতের হয়ে টস করা জাসপ্রিত বুমরা। পিঠের চোটের কারণে সিডনিতে শেষ দুদিন বল করতে পারেননি। তবুও পাঁচ টেস্টে ৩২টি উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। রোহিত শর্মার অবর্তমানে তার নেতৃত্বেই সিরিজ সূচনাকারী পার্থ টেস্ট জিতে এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। তারপরও ৩-১ ব্যবধানে হারতে হয়েছে সিরিজ। তবে বুমরাকে নিয়ে প্রতিপক্ষের সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং যে প্রশংসা করেছেন তা ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দিতে সামর্থ্য রাখে। পন্টিংয়ের চোখে, ‘কোনো সন্দেহ নেই, আমার দেখা ফাস্ট বোলারদের আগ্রাসনের এটিই সম্ভবত সেরা সিরিজ।’

বিশেষ করে বুমরাকে নিয়ে পন্টিংয়ের ভাষ্য, ‘এই সিরিজের কন্ডিশন পেসারদের জন্য সহায়ক ছিল বটে। কিন্তু আপনি যখন বুমরাকে বোলিং করতে দেখবেন তখন অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব হবে না। তার বিপক্ষে ব্যাটিং করাটা রীতিমতো দুঃসাধ্য করে তুলেছিলেন বুমরা। অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারের প্রত্যেকেই ভালো ব্যাটসম্যান। আর এদের সবাইকেই কোনো না কোনো সময় খাবি খাইয়ে ছেড়েছেন বুমরা।’ এতদিন টেস্টে কমপক্ষে ২০০ উইকেট শিকারি বোলারদের মধ্যে গড়ে সবার ওপরে ছিলেন তিন ক্যারিবীয় পেস কিংবদন্তি ম্যালকম মার্শাল, জোয়েল গারনার ও কার্টলি অ্যামব্রোস। তাদের প্রত্যেককে ছাপিয়ে ১৯.৪২ গড় নিয়ে এখন বুমরা এ তালিকায় সবার শীর্ষে। এই সিরিজেই কপিল দেবকে ছাপিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক উইকেট শিকারি হয়েও কণ্ঠে হতাশা ঝড়েছে বুমরার, ‘কখনো কখনো শরীরের কথা ভাবতেই হয়। শরীরের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না। ইচ্ছা না থাকলেও তাই মেনে নিতে হয়। যোগ্য দল হিসেবে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ওদের অভিনন্দন।’

অস্ট্রেলিয়া শুধু সিরিজই জেতেনি। ২০২৩-২৪ মৌসুমে টেস্টে প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অস্ট্রেলিয়া নিজেদের করে নিয়েছে। দলের সবাই সবগুলো ট্রফি নিয়ে উল্লাসে মেতেছেন সাজঘরে। কাপ্তান কামিন্সের ভাষ্যে, ‘এটা বড় সাফল্য। ১১ জনের পক্ষে সব জেতা সম্ভব নয়। তার জন্য দরকার সবার সাহায্য। সেটা আমরা পেয়েছি। আমাদের দলের প্রত্যেকে দুর্দান্ত ক্রিকেটার। কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং আমাদের পরিবার সবসময় আমাদের পাশে থেকেছে।’ ভারতীয় দুই মহাতারকা বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা সিডনি টেস্ট শেষে অবসরে যাবেন কি না সেটি পরের প্রশ্ন। কিন্তু এটিই তাদের শেষ অস্ট্রেলিয়া সফর বলে মনে করা হচ্ছে। আর পেছনের কারণটা হলো বয়স। এ দুজনকে নিয়ে কামিন্স বলেন, ‘এতগুলো বছর দারুণ লড়াই হয়েছে। রান যা-ই করে থাকুক, মাঠে ও থাকলে যে নাটকীয়তা তৈরি হয় সেটা কখনো ভালো, আবার কখনো বিপক্ষকে তাতিয়ে দেওয়ার মতো। আমি জানি সেটা ওর পরিকল্পনার অঙ্গ। খুব ভালো লেগেছে কোহলির সঙ্গে খেলে। গত এক দশক বা তার বেশি সময় ধরে ও তারকা ব্যাটার। ওর উইকেট পেলেই মনে হয় ম্যাচ জিতে গিয়েছি। খুব দুঃখ পাব যদি এটাই ওর শেষ সিরিজ হয়।’

ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর বলেছেন রোহিত-কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়েও, ‘ভবিষ্যৎ ওদের ওপরই নির্ভর করছে। তবে একটা কথা বলতে পারি, খেলার প্রতি ওদের আবেগ, খিদে একই রকম রয়েছে। আশা করি আগামী দিনে ওরা ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।’