সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় কী আছে জানালেন উপদেষ্টা মাহফুজ

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ৮০ ঘণ্টা পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা ও বিধ্বস্ত প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করে তারা। যাত্রা শুরুর পর পরই আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম ও রাষ্ট্র মেরামতের ইঙ্গিত দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

এবার এ সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের যাত্রায় অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকা প্রকাশ করেছে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব অগ্রাধিকার তালিকার কথা জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, আমাদের এখনকার অগ্রাধিকার। সরকারের পক্ষ থেকে— জুলাই শহিদ-আহতদের তালিকা প্রণয়ণ, চিকিৎসা প্রদান। আহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের অর্থসহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন। জুলাই গণহত্যার বিচার ও সে লক্ষ্যে  যথাযথ মামলা ও সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা। গত ১৬ বছরের গুম খুন  ও অর্থনৈতিক লুটপাটের বিচার। লুট হওয়া অর্থ ফেরত আনা। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের বিবিধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তবসম্মত সংস্কার নিশ্চিত করা। শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, তথ্য প্রযুক্তি ও আবাসন সহ সকল জনগুরুত্বপূর্ণ খাত ঢেলে সাজানো তরুণ প্রজন্মের জন্য চাকরি ও উদ্যোগের ক্ষেত্রে  সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা বৃদ্ধি করা। কথিত ‘উন্নয়ন অর্থনীতি’র বদলে জনগণ, প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের অনুকূল অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা। সরকারের সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। 

এছাড়া রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের তালিকার বিষয়ে তিনি লেখেন, অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোকে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ ও নূতন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা। জাতীয় স্বার্থকে সকল ক্ষেত্রে সমুন্নত রাখা এবং বিগ কর্পোরেশন ও বিদেশী স্বার্থের বাইরে বাংলাদেশের জনগণ ও প্রাণ প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রশ্নকে গুরুত্ব দেওয়া। জাতীয় অগ্রাধিকার তথা জাতীয় নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐকমত্য ধরে রাখা এবং জনগণের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা  ও খুনিদের ফেরত আসার পথ রুদ্ধ করা। সংস্কারের পক্ষে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া তথা নির্বাচন ব্যবস্থা, সংস্কার সাপেক্ষে জনগণের রায়ের কাছে ছেড়ে দেওয়া। সারা দেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে (দায়িত্ব ও অধিকার বিষয়ে)  শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলা।