রাজধানীতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত

ঢাকা শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য সব ধরনের অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) চলমান অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (৬ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ঢাকা শহরের যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব) মো. খোদা বখস চৌধুরী, পরিবহনবিশেষজ্ঞ এস এম সালেহউদ্দিন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ, ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শের ভিত্তিতে আশু করণীয় সুপারিশের আলোকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। 

সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জানিয়েছেন, ডিএমপির কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে ৪ হাজার ২০০ জন পুলিশ সদস্য এবং ৬০০ জন ছাত্র প্রতিনিধিকে নিয়োজিত করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডিএমপি ৪৫ হাজার ৪৫৭টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৫ হাজার ৯৭৯টি পায়ে চালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জন্য ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৫ টাকা জরিমানাসহ ১ লাখ ৩৯ হাজার একটি মামলা করা হয়েছে।

বুয়েটের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার আলোকে ঢাকা শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট আকারে) ঢাকা শহরের চারটি ইন্টারসেকশনে দেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এর ফলাফলের আলোকে চার মাসের মধ্যে আরও ১৮টি ইন্টারসেকশনে দেশি প্রযুক্তির ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

খোদা বখস চৌধুরী বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ইতিমধ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হলে প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া তিনি সড়কে যানবাহন চলাচল উন্নয়নের জন্য সিটি করপোরেশনের চলমান প্রয়োজনীয় রোড মার্কিং, ট্রাফিক সাইন ও বাসস্টপগুলোয় যথাযথভাবে মার্কিং কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে বলেন।

ঢাকা শহরের প্রধান সড়কে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয় বৈঠকে। এছাড়া, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা শহরে ট্র্যাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর জন্য সিটি কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।