কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইমন মিয়া (২৭) নামের এক যুবককে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে স্ত্রী-শাশুড়িসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ইমন শহরের কমলপুর এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে।
গতকাল সোমবার রাতে ইমনের শাশুড়ি হাফসা বেগমকে প্রধান অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন হারুন মিয়া। হাফসা বেগম একই এলাকার মরম সরকারের বাড়ির মৃত নাসির মিয়ার স্ত্রী।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- নিহত ইমনের স্ত্রী আরজুদা আক্তার বীথিকা, শ্যালক তন্ময়, প্রতিবেশী দয়াল মিয়ার ছেলে সাজন, রাজন ও বিজন।
ইমনের বাবা হারুন মিয়া ছেলে বলেন, এর আগেও একটি মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমার ছেলেকে বেদম পিটিয়েছিল। এবারও পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে খবর দিয়ে বাড়ি নিয়ে শরীরে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে হত্যা করেছে।
তবে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবি, স্ত্রীকে আনতে শ্বশুর বাড়ি গেলে স্ত্রী তার সাথে না ফেরায় ইমন নিজেই নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ইমনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে রাস্তায় পেয়ে মারধর করেন। পরে গত শুক্রবার শ্বশুর বাড়ি থেকে স্ত্রীকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে গেলে অভিযুক্তরা ইমনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠায়। সেখানে একদিন চিকিৎসাধীন থেকে শনিবার দুপুরে ইমন মারা যান।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ওই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিম মিয়া জানান, ইমনের শরীরের অর্ধেকেরও বেশি পুড়ে যাওয়া আমরা তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করি।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার সিকদার বাড়ির ইমনের সঙ্গে মরম সরকারের বাড়ির আরজুদা আক্তার বীথিকার বিয়ে হয় প্রায় সাড়ে ৪ বছর আগে। এই দম্পত্তির নূরতাজ নামের আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্যজীবনে কলহ লেগেই থাকত।
ইমন এলাকার একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও মাদকাসক্ত ছিলেন। স্বামী ইমনের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী আরজুদা আক্তার বীথিকা তার বাবার বাড়িতে চলে যান। গত ৩১ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের নোটারি পাবলিক আদালতের মাধ্যমে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
এ বিষয়ে স্ত্রী আরজুদা আক্তার বীথিকা বলেন, ‘ইমন শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আমাদের বাড়িতে আসে। আমি তাকে বলি তোমার সাথে আমার তালাক হয়ে গেছে। এখন থেকে তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এ সময় ইমন পটেক থেকে পেট্রোলের বোতল শরীরে ঢেলে দিয়ে আমাকে হুমকি দেয়। পরক্ষণেই শরীরে নিজেই আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আমি প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। এ সময় আমার শরীরও আগুনে দগ্ধ হয়। আত্মহত্যার চেষ্টা করায় তার পরিবারের লোকজনকে খবর দিলে তারা এসে ইমনকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ইমন এর আগেও ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।’
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রূহানী বলেন, ‘মামলায় অভিযুক্ত কাউকে এখনও আটক করা সম্ভব হয়নি। চেষ্টা অব্যাহত আছে। খুব শিগগিরই আটক করা সম্ভব হবে।’