কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ১৪ ডিসেম্বর মোহামেডানের সঙ্গে পেরে ওঠেনি আবাহনী। জোর লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত সুলেমান দিয়াবাতেকে থামাতে পারেনি তারা। পরিণতিতে প্রিমিয়ার লিগে প্রথম ও একমাত্র হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছিল আকাশিদের। সেই হারের দুঃখ ভুলতে মঙ্গলবার জয়ের বিকল্প ছিল না। সেই কুমিল্লাতেই ফেডারেশন কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বদলাটা নিয়েছে আবাহনী। অভিজ্ঞ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের গোলে চিরশত্রুদের বলতে গেলে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দিয়েছে আবাহনী। ফেডারেশন কাপের কোয়ালিফায়ার্স এই জয়ে অনেকটাই নিশ্চিত আবাহনীর। অন্যদিকে তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ার শঙ্কায় গতবারের রানার্স-আপরা।
লীগে দুর্বার গতিতে ছুটে চলা মোহামেডান ফেডারেশন কাপে সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে তারা হেরে যায় রহমতগঞ্জের কাছে। দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীকে উড়িয়ে দিলেও চিরশত্রু আবাহনীর কাছে এই হার তাদের অনেকটাই ছিটকে দিয়েছে শেষ চারের হিসাব থেকে। আবাহনী ও রহমতগঞ্জের এখন সমান ছয় পয়েন্ট। এই দুই দল তাদের পরের দুই ম্যাচ থেকে একটি করে পয়েন্ট সংগ্রহ করলেই চলে যাবে নতুন ফরম্যাটের কোয়ালিফায়ার্সে। মোহামেডান শেষ ম্যাচে ফকিরেরপুলকে হারালেও লাভ হবে না।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে গত দুই বছরের পরিসংখ্যানে পরিষ্কার এগিয়েছিল মোহামেডান। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সবশেষ তাদের বিপক্ষে জিতেছিল আবাহনী। পরের ছয়বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে তিনবার জয়ের স্বাদ পায় মোহামেডান, বাকি তিনটি ম্যাচ ড্র হয়।
মাস্ট উইন ম্যাচে মোহামেডান নেমেছিল পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে। চোটের কারণে আগের দুই ম্যাচে বিশ্রামে থাকা মালির ফরোয়ার্ড দিয়াবাতেকে নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ আলফাজ আহমেদ। স্থানীয়দের নিয়ে গড়া আবাহনী অবশ্য শুরু থেকেই ঘর সামলানোর লক্ষ্য নিয়ে খেলতে থাকে। মোহামেডানের বিদেশিদের পাশাপাশি ফর্মে থাকা স্থানীয় ফরোয়ার্ডদের রুখতে রক্ষণাত্মক কৌশল সাজিয়েছিলেন অভিজ্ঞ কোচ মারুফুল হক। তাতে তিনি পুরোপুরি সফল।
যদিও তার শিষ্যরাই প্রথম গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ১৯ মিনিটে। শাহরিয়ার ইমন বক্সে ঢুকে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু লক্ষ্যে শট নেওয়ার আগেই ডিফেন্ডার মেহেদী হাসান মিঠু ক্লিয়ার করেন। মোহামেডান ৩৬ মিনিটে গোল পেতে পারত। সানডের ক্রস থেকে আরিফ হেড নেওয়ার আগেই পাঞ্চ করে ফেরান আবাহনী কিপার মিতুল মারমা। দুই মিনিট পর সোলেমানে দিয়াবাতেকে শট নেওয়ার আগেই ডিফেন্ডার কামরুল হাসান ক্লিয়ার করেন।
বিরতির পর খেলা অনেকটাই জমে ওঠে। দুদলই চেষ্টা করেছে গোলের। বিরতির পরপরই মুজাফফরভের কর্নারে মোহামেডানের এক ফরোয়ার্ডের ফ্লিক রুখে দেন মিতুল। ৭৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল পায় আবাহনী। মাঝমাঠে বল পেয়ে ডানদিকে থ্রু পাস বাড়িয়েছিলেন এনামুল গাজী। সেই বল ধরে আক্রমণে উঠে গোলমুখে বল ঠেলে দেন শাহরিয়ার ইমন। দ্রুত দৌড়ে এসে ইব্রাহিম নিখুঁত প্লেসিংয়ে মোহামেডান কিপার সুজনকে পরাস্ত করেই জার্সি খুলে বুনো উদযাপনে মেতে ওঠেন। পিছিয়ে পড়ে মোহামেডান জোর চেষ্টা চালিয়েছিল ম্যাচে ফেরার। তবে আলফাজ আহমেদের দলের ভাগ্য এই ম্যাচে সহায় হয়নি। ৮৬ মিনিটে মোহামেডানের বদলি মোহাম্মদ জুয়েলের কর্নারে দিয়াবাতে ঠিকঠাক হেড করতে পারেননি। উল্টো যোগ করা সময়ে আবাহনী আরও এগিয়ে যেতে পারত। তবে ইব্রাহিমের কাটব্যাকে সতীর্থ মাহাদীর দুর্বল শট মোহামেডান কিপার সুজন শুয়ে পড়ে প্রতিহত করেন।
নিজের গোলে দল জিতলেও যোগ করা সময়ে তার অ্যাসিস্টে মাহাদীর গোল না পাওয়ার আক্ষেপ করলেন ইব্রাহিম। কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে ফোনে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই গোলটা হয়ে গেলে আরও তৃপ্তি পেতাম।’ তাই বলে জয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে ভুলেননি বসুন্ধরা কিংস থেকে আবাহনীতে আসা ইব্রাহিম, ‘এই ম্যাচটা ছিল আমাদের জন্য প্রতিশোধের ম্যাচ। এই মৌসুমে একটা ম্যাচই হেরেছিলাম। সেটা মোহামেডানের কাছে লিগে। ওরা বিদেশি নিয়ে খেলেছে। তারপরও ওদের সঙ্গে আমরা সমান্তরালে লড়াই করেছি। আমার গোলে দল এমন ম্যাচ জেতায় ভীষণ ভালো লাগছে।’
এদিকে বি গ্রুপের অপর ম্যাচটি ফকিরেরপুল ও চট্টগ্রাম আবাহনীর মধ্যে ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। এই দুই দলেরই অবশ্য পরের পর্বে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।