‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনি-২’ নামের একটি বাংলা চলচ্চিত্রে জাতীয় দলের ক্রিকেটারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শাকিব খান। ইন্টারনেটের মিম দুনিয়ায় এখনো সেই ছবির কিছু কিছু দৃশ্য হাসির খোরাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে রুপালি দুনিয়ায় নয়, বাস্তবে হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে সুপারস্টার শাকিব খানের দল ঢাকা ক্যাপিটালস। নায়ক-নায়িকায় ঠাসা থিম সংটা যেমন জগাখিচুড়ি হয়েছে, তেমনি মাঠের খেলাতেও ঢাকা ক্যাপিটালস এখন পর্যন্ত সুপার ফ্লপ। চার খেলার প্রতিটিতেই হার, শোচনীয় ব্যাটিং এবং অদ্ভুতুড়ে অধিনায়কত্ব। সব মিলিয়ে কিং খানের ঢাকা ওপর দিয়ে ফিটফাট হলেও মাঠে একেবারে সদরঘাট।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এই পর্বের প্রথম ম্যাচে ২০০ রানও নিরাপদ ছিল না। সেই মাঠেই রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ১৬.৩ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয়েছে ঢাকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাদা বলের করুণ দশা লিটন দাস টেনে এনেছেন ঢাকার জার্সিতেও। শেষ ৩ ইনিংসের স্কোর ০, ২ এবং ৯। মঙ্গলবার আউট হয়েছেন নাহিদ রানার বলে, আজিজুল হাকিম তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে। নেটে অনুশীলনে যাদের বছর জুড়ে খেলেন, সেই তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানারাই তাকে আউট করছেন বিপিএলে। উড়িয়ে আনা জেসন রয়ও পারেননি ঢাকার মান বাঁচাতে। ১২ বলে ১৮ রান করে নিয়েছেন বিদায়। তানজিদ হাসান তামিমও করেছেন ১৬ বলে ২০ রান। শেষবেলায় দলে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত করেছেন ৯ বলে ১২ রান, বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে দলে নেয়নি। শাস্তি পেয়ে একাদশের বাইরে থাকা সাব্বির রহমান সুযোগ পেয়ে করেছেন ৭ বলে ২ রান, অধিনায়ক থিসারা পেরেরা হারা ম্যাচে সেঞ্চুরি করে কাল আউট হয়েছেন ০ রানে। নাহিদ রানা না হয় গতির জোরে পরাস্ত করেছেন, কিন্তু খুশদিল শাহ, ইফতিখার আহমেদদের সাধারণ বোলিংয়ের সামনেও ঢাকার ব্যাটসম্যানরা যেভাবে নাকাল হচ্ছেন সেটা প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে তাদের মান নিয়েই।
দলটার কোচের দায়িত্বে খালেদ মাহমুদ সুজন। আগের মৌসুমে টানা ১১ ম্যাচ হেরেছিলেন দুর্দান্ত ঢাকার ডাগআউটে বসে, এবার টানা ৪ হার আরও যোগ হলো। আবাহনী লিমিটেডকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন সবশেষ মৌসুমের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। অথচ বিপিএলে তার দলের এমন দুরবস্থা! এই বৈপরীত্যই ফুটিয়ে তুলেছে ক্রিকেট বোর্ডের কিছু মানুষ কী পরিমাণ প্রভাব খাটাতেন মাঠের খেলায়। মাহমুদ দল সাজান চেনা মুখদের নিয়ে। সাব্বির, মোসাদ্দেক, লিটন, তামিম সবাই তার ঘরের মানুষের মতোই। অন্য সময় বিসিবি পরিচালক হয়ে বিপিএলে কোচিং করাতেন সুজন, এবার পরিচালক পদ নেই। তাতেই কি বদলে গেল সবকিছু?
১৬.৩ ওভারে ১১১ রানে কোনো দল অলআউট হলে লড়াইয়ের কিছুই থাকে না। ঢাকা ক্যাপিটালসও পারেনি। অদম্য রংপুর রাইডার্স তাদের ৪০ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে হারিয়ে ৫ ম্যাচে ৫ জয় আদায় করে নিয়েছে। আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান অ্যালেক্স হেলস করেছেন ২৭ বলে ৪৪ রান। মারমুখী হয়ে সাইফ হাসান ১৫ বলে ১৩ রান করে ফিরে গেলেও খুশদিল শাহের ১৩ বলে ২৭* রানের ইনিংস রংপুরকে নিয়ে গেছে জয়ের বন্দরে। ১৩.২ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৩ রান করে ২ পয়েন্টের পাশাপাশি রানরেটও স্বাস্থ্যবান করে নিয়েছে রংপুর।
ম্যাচে সন্দেহের উদ্রেক করেছে আমির হামজার বোলিং। বিশাল নো বল করেছেন পা প্রায় এক হাত সামনে ফেলে। আর আলাউদ্দিন বাবু টানা ওয়াইড দিয়েছেন ৩টা। সেই ওভারের পর আর বোলিংও পাননি ২ ওভারে ৩৩ রান দেওয়া আলাউদ্দিন বাবু।
পর্দায় নানান ঘটনার পর শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে বলে বলে ছক্কা মেরে লাল সবুজের দলকে জেতান শাকিব খান। বিপিএলেও ক্রিকেট আর সিনেমার মহাশক্তির মিলন ঘটানো, কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে খেলা নিয়ে শাহরুখ খানের সঙ্গে আলাপসহ অনেক হাওয়াই কথা ছড়িয়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। কিন্তু মাঠের খেলায় তাদের বেলুন ফুটো হয়ে গেছে চার ম্যাচেই। এই দলকে শেষ চারের লড়াইতে রাখতে শেষ পর্যন্ত শাকিব খানকেই ব্যাট হাতে নেমে পড়তে হয় কি না সেটাই এখন দেখার। অবশ্য আলিফ গ্রুপের হাতে থাকা সিলেট সুপারস্টারস দলে এমন একটা ঘটনা প্রায় ঘটেই গিয়েছিল। টানা হারতে থাকা দলের হয়ে নাকি মালিক আজিমুল ইসলাম নিজেই নেমে যেতে চেয়েছিলেন! শাকিব নামলে সেটা দেখতে টিকিট বিক্রি বাড়তে পারে, তাতে বিপিএলের লাভই হবে।