দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি মারেকে কোচ করলেন জকোভিচ

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার লক্ষ্য নিয়ে এগোনো নোভাক জোকোভিচের জন্য নতুন কিছু নয়। তবে এবারের যাত্রায় বড় পার্থক্য হলো তার দলের নতুন সদস্য—চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি মারে।  

৩৭ বছর বয়সী সার্বিয়ান তারকা, যিনি রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার খোঁজে রয়েছেন, গত নভেম্বরে দীর্ঘদিনের বন্ধু মারে-কে তার কোচিং টিমে যুক্ত করার ঘোষণা দেন।  

ব্রিটিশ তারকা মারে, তিনবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী, গত বছর টেনিস থেকে অবসর নেন। তবে এর আগে জোকোভিচের সঙ্গে কোর্টে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত ভাগাভাগি করেছেন এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা ট্রফির জন্য একাধিকবার লড়েছেন।  

এমন একজন ব্যক্তি, যিনি জোকোভিচের খেলা এত গভীরভাবে বোঝেন, তাকে দলে নেওয়া স্বাভাবিকই বটে। জোকোভিচ স্বীকার করেছেন যে, মারে তার খেলায় "তাজা দৃষ্টিভঙ্গি" যোগ করেছেন।

এখানে জোকোভিচ ও মারে-র মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কিছু উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত তুলে ধরা হলো:  

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ২০১১ - প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল সাক্ষাৎ  

২০০৬ সালে এটিপি ট্যুরে প্রথম দেখা হওয়ার পর জোকোভিচ মারে-র বিপক্ষে প্রথম চার ম্যাচ জিতেছিলেন। কিন্তু মারে পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালে সিনসিনাটি এবং ২০০৯ সালে মায়ামি ফাইনালে জয় পান।  

তাদের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল সংঘর্ষ ঘটে ২০১১ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। ২৩ বছর বয়সী দুই তারকার মধ্যকার সেই ম্যাচটি ভবিষ্যতের বড় লড়াইগুলোর ইঙ্গিত দেয়।  

তবে সেদিন জোকোভিচ ৬-৪, ৬-২, ৬-৩ সেটে জয়ী হয়ে মারে-কে তৃতীয়বারের মতো গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে পরাজয়ের স্বাদ দেন।  

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ২০১২ - সেমিফাইনালে মহাকাব্যিক লড়াই 

পরের বছর মেলবোর্নে দুই তারকার সেমিফাইনাল ম্যাচটি পাঁচ সেটের একটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে পরিণত হয়।

জোকোভিচ দুই সেটে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ফিরে এসে ৬-৩, ৩-৬, ৬-৭ (৪-৭), ৬-১, ৭-৫ ব্যবধানে জিতেছিলেন। তবে ফাইনালে পৌঁছানোর পথে মারে তার উন্নতির প্রমাণ রাখেন।  

ইউএস ওপেন ২০১২ - মারে-র প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা

২০১২ সালের ইউএস ওপেন ফাইনালে মারে অবশেষে ব্রিটেনের ৭৬ বছরের পুরুষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা-খরা শেষ করেন।  

ড্রামাটিক পাঁচ সেটের লড়াইয়ে তিনি জোকোভিচকে ৭-৬ (১২-১০), ৭-৫, ২-৬, ৩-৬, ৬-২ ব্যবধানে পরাজিত করেন। এই জয়ে তিনি ফ্রেড পেরির পর প্রথম ব্রিটিশ গ্র্যান্ড স্ল্যাম বিজয়ী হিসেবে নাম লেখান।  

উইম্বলডন ২০১৩ - ব্রিটেনের জন্য ঐতিহাসিক জয়

২০১৩ সালের উইম্বলডন ফাইনালে মারে আরও একটি মাইলফলক স্থাপন করেন। তিনি ৭-৫, ৬-৪, ৬-৪ সেটে জোকোভিচকে হারিয়ে ব্রিটেনকে ৭৭ বছর পর উইম্বলডন শিরোপা উপহার দেন।  

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ২০১৫ - জোকোভিচের আধিপত্য

মারে তার ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন পাঁচবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন রানার্স-আপ হয়ে। তার মধ্যে চারবার ফাইনালে তিনি হেরেছিলেন জোকোভিচের কাছে।  ২০১৫ সালের ফাইনালে চার সেটে হেরে যান মারে।

কাতার ওপেন ২০১৭ - চূড়ান্ত লড়াই

২০১৬ সালে জোকোভিচ ও মারে একে অপরের বিরুদ্ধে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান দখলের জন্য লড়াই করেছিলেন।  

২০১৭ সালের শুরুতে কাতার ওপেনে তারা শেষবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু এরপর মারে-র চোট সমস্যা তাকে প্রতিযোগিতা থেকে দূরে সরিয়ে নেয়।

তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা টেনিস ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর এবার মারে-র অভিজ্ঞতা জোকোভিচকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।