প্রায় জিতে যাওয়া ম্যাচটি বরিশালের হাতের মুঠো থেকে ছিনিয়ে নেয় রংপুর রাইডার্স। শেষ ওভারে ২৬ রানে কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে দিয়ে দলকে ষষ্ঠ জয় এনে দেন রংপুর অধিনায়ক সোহান। এমন ম্যাচে হেরে যাওয়া দলের অধিনায়কের মেজাজ চড়া থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ব্যক্তিটি যখন দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজ্ঞদের একজন তামিম ইকবাল তখন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার কথা না। তবুও এমন ঘটনা দেখতে হলো সিলেটে। দিনের প্রথম ম্যাচে হারের পর দুই দলের করমর্দনের সময় মেজাজ হারান তামিম। তেড়ে যান প্রতিপক্ষের একজনের দিকে।
জানা যায় তামিমের এমন মেজাজ হারানোর পেছনে কারণ রংপুরের ইংরেজ ব্যাটার অ্যালেক্স হেলস। ম্যাচ শেষে হাত মেলানোর সময় তামিমকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মুখভঙ্গি করেন হেলস। সে সময় তামিম বলে ওঠেন, ‘এ রকম করছ কেন? কিছু বলার থাকলে মুখে বলো। বি আ ম্যান।’ এরপর হেলসও পেছন থেকে কিছু একটা বললে খেপে যান তামিম। তখনই তিনি তেড়ে যেতে চান হেলসের দিকে। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে তামিমকে টেনে ধরেন রংপুরের টিম ডিরেক্টর শাহনিয়ান তানিম। রংপুর অধিনায়ক সোহানও এগিয়ে যান তামিমের দিকে। ওই দুজনসহ বাকিদের প্রচেষ্টায় ইতি ঘটে উত্তেজনার।
এ ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন অ্যালেক্স হেলস। তামিম তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন দাবি করে হেলস বলেন, ‘তামিম আমার কাছে এসে বললেন আমি যদি কিছু বলতে চাই তাকে যেন সরাসরি বলি। আমি বিয়ার পানের কারণে ২০২১ সালে তিন সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলাম। তিনি সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এবং আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে। এটা সত্যিই লজ্জার।’
এ নিয়ে ম্যাচশেষে সোহান বলেন, ‘ঘটনাটা আমি খুব কাছ থেকে দেখিনি। আমি দেখেছি শেষ দিকে, মানে যখন ফিরে আসছি। আমি ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পর বুঝতে পারব, কী হয়েছে। তবে কিছু একটা হয়েছে, আমিও এটা দেখেছি।’ সংবাদ সম্মেলনে বরিশালের প্রতিনিধিত্ব করেন ব্যাটিং কোচ নাফিস ইকবাল। ছোট ভাইয়ের এমন কাণ্ড নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই, যেহেতু এটা নিয়ে আলাপ হয়নি। উত্তেজিত হয়েছে (তামিম), এটা দেখেছি। এই ধরনে ম্যাচ হারার পর অনেক আবেগ চলে আসে। তবে আমার মনে হয়, তেমন সিরিয়াস কিছু নয়।’
আসরে এ পর্যন্ত বাকি দলগুলোকে হারালেও দুইবারই রংপুরের কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে তামিমের বরিশালকে। প্রথম ম্যাচে হারের শোধ নেওয়ার এমন সুবর্ণ সুযোগ হারানো তামিমে মেজাজ বিগড়ে যাওয়ার কারণ হতেই পারে।