বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে দুর্বার গতিতে ছুটে চলছে মোহামেডান। প্রথম ছয় রাউন্ডে শতভাগ জয় তাদের। ১৮ পয়েন্টে আছে লিগ টেবিলের শীর্ষে। লিগের এই পারফরম্যান্স অবশ্য দলটি ধরে রাখতে পারেনি ফেডারেশন কাপে। গত মঙ্গলবার স্থানীয়দের নিয়ে খেলা চির বৈরী আবাহনীর কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে মর্যাদার আসর থেকে। তাই এখন লিগেই সব মনোযোগ আলফাজ আহমেদের দলের। তবে আজ তার দলকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জে আজ স্বাগতিক রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ম্যাচ তাদের। ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জিতে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থাকা পুরনো ঢাকার দলটির আজ মোহামেডানকে ছুঁয়ে ফেলার সুযোগ। অভিজ্ঞ কোচ কামাল বাবুর অধীনে এ মৌসুমে রহমতগঞ্জও খেলছে বদলে যাওয়া ফুটবল। ফেডারেশন কাপের গ্রুপপর্বে মোহামেডানকে হারানোর সুখস্মৃতি সঙ্গী করে আজ মাঠে নামবে দলটি।
এই ম্যাচের আগে মোটেও স্বস্তিতে নেই মোহামেডান শিবির। আবাহনীর কাছে তিন দিন আগের হারটাই সুখের ঘর খানিকটা এলোমেলো করে দিয়েছে। তাই আলফাজ আহমেদও নির্ভার থাকতে পারছেন না। লিগে পা হড়কায়নি ঠিক, তবে বাজে দিন চলে আসতে পারে যেকোনো সময়। এই ভাবনা থেকেই তিনি দলের কাছ থেকে চান সেরা পারফরম্যান্স। আবাহনীর কাছে হারের তেতো স্মৃতিটা এখনো তরতাজা। সে ম্যাচে পাওয়া একটা সুযোগ কাজে লাগিয়ে মোহামেডানকে বিদায় করে দিয়েছিলেন আবাহনীর মোহাম্মদ ইব্রাহিম। অন্যদিকে ডাগআউট থেকে নিজের শিষ্যদের দেখেছেন একের পর এক ভুল করতে। জিততেই হবে চাপটা নিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে পারেনি সাদা-কালোরা। আলফাজ এটাকেই হারের মূল কারণ হিসেবে টেনে এনেছেন, ‘ম্যাচটা আমরা যেকোনো মূল্যে জিততে চেয়েছিলাম বলেই ছেলেরা বাড়তি চাপ নিয়ে ফেলেছিল। ওই হারের পর শুক্রবারের ম্যাচটা আমাদের জন্য আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। রহমতগঞ্জ অবশ্যই ভালো দল। তাদের মধ্যে জয়ের একটা অভ্যাস গড়ে উঠেছে। তাই তাদের হারাতে আমাদের সেরাটাই দিতে হবে। এই ম্যাচটা আরও কঠিন হয়েছে ভেন্যু বদলে যাওয়ায়। তারপরও লিগে জয়ের যে ধারাবাহিকতা আছে সেটা কোনো অবস্থাতেই ব্যাঘাত ঘটতে দিতে চাই না।’ এর জন্য মোহামেডানের তাকিয়ে থাকতে হবে একজনের ওপর। তিনি মালির ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতে। আলফাজের কথাতেই পরিষ্কার অধিনায়কে কতটা আস্থা তার, ‘দিয়াবাতে যদি তার স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারে তবে বাকিদের কাজ অনেক সহজ হয়। যেটা ও আবাহনীর বিপক্ষে পারেনি।’
এই দিয়াবাতেকে নিয়ে নিশ্চয়ই বাড়তি পরিকল্পনা থাকবে রহমতগঞ্জ বস কামাল বাবুর। যদিও সেটা নিজের ভেতরেই রাখতে চাইছেন অভিজ্ঞ কোচ। বরং নিজেদের সহজাত ছকে খেলেই মোহামডানকে আরেকবার হারাতে চান কামাল বাবু, ‘আমরা শুরু থেকেই একটা নিজস্ব ছকে খেলে আসছি। আমাদের মূলমন্ত্র আগে ঘর সামলাতে হবে। এরপর গোলের চেষ্টা করতে হবে। এভাবেই ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলছি।’ ধারাবাহিক ভালো ফুটবলের কৃতিত্ব শিষ্যদের দিচ্ছেন বাবু, ‘দেখুন সীমিত বাজেটের মধ্যেই আমরা চেষ্টা করছি একটা ভালো ফলাফলের। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো দলের স্থানীয় ও বিদেশি ফুটবলারদের মধ্যে দারুণ একটা সমন্বয় হয়েছে। তাছাড়া ঘানা থেকে আসা আমাদের তিনজন ফুটবলারই তাদের সেরাটা দিচ্ছে। এর মধ্যে আগের ম্যাচে ডাবল হ্যাটট্রিক করা স্যামুয়েল বয়সে তরুণ। তার খেলা দেখলে বোঝা যায় বড় ক্লাবের ফুটবলার। তাছাড়া আমাদের স্থানীয়রাও তাদের দায়িত্বটা খুব ভালোভাবে পালন করছে। দুই ব্যাক তাজউদ্দিন ও রাজন গোল করছে আবার নিয়মিত করাচ্ছেও। অভিজ্ঞ জীবন তো প্রায় প্রতি ম্যাচেই গোল পাচ্ছে। সব মিলিয়ে দল হিসেবে একটা ভালো জায়গায় আছি। এগুলোই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহস দেয়।’
আজ সপ্তম রাউন্ডের আরও তিনটি ম্যাচ হবে ভিন্ন তিন মাঠে। বসুন্ধরা কিংস নিজেদের মাঠে মুখোমুখি হবে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সের। ময়মনসিংহে স্বাগতিক পুলিশের প্রতিপক্ষ ফর্টিস এফসি। আর গাজীপুরে ধুকতে থাকা ঢাকা ওয়ান্ডারার্স খেলবে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে।