দেশের তৃতীয় আঞ্চলিক গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগার অবস্থিত চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। কৃত্রিম প্রজনন ও ভ্রুণ স্থানান্তর (এআইইটি) প্রকল্পের আওতায় হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিমে সরকারি দুগ্ধ ও গবাদিজাত উন্নয়ন খামার-সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৯ একর জমির ওপর এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থাপন করা হয়েছে বিশালাকার এ প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৭ সালে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়।
জানা যায়, গবাদি পশুর জাত উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য ভালো মানের ষাঁড় হতে সিমেন (বীর্য) উৎপাদন করে দেশীয় গাভীকে প্রজনন করানোর উদ্দেশ্য হাটহাজারীতে স্থাপিত হয়েছে এই গবেষণাগার কাম বুল স্টেশনটি। বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় উন্নতজাত ধরে রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখানে রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আধুনিক কার্যালয়। রয়েছে সিমেন সংগ্রহের পর যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করার ল্যাবসহ নানা যন্ত্রপাতি। বাছাইকৃত ষাঁড় রক্ষণাবেক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল ১০টি শেড। প্রতি শেডে থাকবে ১০টি করে ষাঁড়। সিমেন উৎপাদন বা সংগ্রহের যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করা হবে এসব শেডে। জাতীয় প্রজনন নীতিমালা অনুসারে দেশীয় জাতের (আরসিসি) গাভীকে একই জাতের ষাঁড়ের বীজ দিয়ে প্রজনন করানো বাধ্যবাধকতা রয়েছে এ প্রকল্পে। তাই প্রতিষ্ঠান-সংলগ্ন সরকারি দুগ্ধ ও গবাদিজাত উন্নয়ন খামার থেকে যাছাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে বাছাইকৃত রেড কাউ (আরসিসি) ষাঁড় নিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
জানা যায়, ইতিমধ্যে যাছাই-বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে সরকারি দুগ্ধ ও গবাদিজাত উন্নয়ন খামার থেকে ৯টি ষাঁড় নেওয়া হয়েছে। বাছাইকৃত ষাঁড়গুলোকে নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। খালি জায়গায় ষাঁড়ের পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহে চাষ করা হচ্ছে উন্নতমানের ঘাস, ভুট্টা। বর্তমানে একটি শেডে ৯টি ষাঁড় সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। তাদের দেখভাল করছেন কয়েকজন কর্মচারী। বাকি ৯টি শেড খালি পড়ে আছে। শেডের কাছে আছে খড় রাখার গুদাম। সাজানো-গোছানো আলাদা আলাদা কক্ষ। ল্যাব কক্ষে বাক্সবন্দি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। ফলে যে উদ্দেশ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে তার কার্যক্রম থমকে আছে। একজন উপপরিচালক, একজন সায়েন্টিফিক অফিসার, একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান ও একজন অফিস সহকারীর পদ থাকলেও সবগুলি পদ শূন্য। ইতিমধ্যে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১১ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে কর্মস্থলে পাওয়া গেলেও বাকি ছয়জন রয়েছেন ডেপুটেশনে। নিয়োগের পর কর্মস্থলে উপস্থিত হলেও খুব দ্রুত উচ্চমহলে সুপারিশের মধ্য দিয়ে যে যার পছন্দমতো কর্মস্থলে চলে যান।
কারণ হিসেবে জানা যায়, নিয়োগ পাওয়া একজন ছাড়া অন্যরা কেউ হাটহাজারী উপজেলা কিংবা চট্টগ্রাম জেলার কেউ নন। আশপাশের জেলা থেকে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে ধার্য করা স্বল্প বেতনে তাদের নিজের ব্যয় মিটিয়ে যাতায়াত খরচ এবং পরিবার চালানো কষ্টকর। যদি হাটহাজারী বা পাশর্^বর্তী এলাকা থেকে নিয়োগ দেওয়া হতো তাহলে একদিকে যেমন বেকার সমস্যার সমাধান হতো, অন্যদিকে কর্মস্থলে তারা প্রতিদিন উপস্থিত থাকতেন। তাছাড়া পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হলে ২৫-৩০ জনের জনবলের প্রয়োজন হবে।
কৃত্রিম প্রজনন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক শাহজামান খান তুহিন বলেন, যন্ত্রপাতির বিষয়ে প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতরা ভালো বলতে পারবেন। সামনে নতুন করে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। তখন এর কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।