বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের ঘটনায় ২৮ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
র্যাগিংয়ের ঘটনায় মোট ৫৩ জন অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছে হল প্রশাসন। তাদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী সোহরাওয়ার্দী হলের বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থী এবং বাকি ২৫ জন অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছিলেন। বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীদের ১ বছরের জন্য হল থেকে বহিষ্কার এবং অবৈধদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্ব স্ব অ্যাটাচট হলে ফেরত পাঠানো হয়।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান মোল্যা হলের বৈধ শিক্ষার্থীদের বহিস্কার আদেশ দেন।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিনেন্স অনুযায়ী হলে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, বাকৃবির শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মুনির হোসেন, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান মজুমদার, সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অন্যান্য হলের প্রভোস্ট উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ওই হলের লেভেল-১, সেমিস্টার-২, লেভেল-২, লেভেল-৩, লেভেল-৪ এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, অভিযুক্তরা রোববার রাতে নতুন ভর্তিকৃত ছাত্রদের র্যাগিং করেছে। গোপনে তারা এই কাজ করেছে। পরবর্তীতে তথ্যের ভিত্তিতে ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে আমরা তাদের শনাক্ত করেছি। অভিযুক্তরা তাদের অপরাধ স্বীকারও করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হলসমূহের প্রভোস্ট, শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স এর ৭ নম্বর ধারা মোতাবেক হল থেকে তাদের ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী হলের ২৮ জন এবং নন অ্যাটাচ ২৫ জন অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক ২৮ জনের মধ্যে যাদের হলে পেয়েছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং নন অ্যাটাচদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে বাকৃবি প্রশাসন সর্বদা বদ্ধপরিকর এবং আমরা সেভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীরা সর্বপ্রথম গত ১২ জানুয়ারি রাতে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং করে এবং এর ফলে এক শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। হল প্রভোস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পরবর্তীতে তদন্তের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরো ব্যবস্থা নিবে।