দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুটি হলের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলার ঘটনায় ছয় শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া সংঘর্ষে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, অস্ত্র হাতে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুরের ঘটনায় আরও ৬০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও জরিমানা করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ৩০ জুন ৬৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এই শাস্তির সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত ২১ মে দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবরার ফাহাদ হল থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি হাতে শহীদ নূর হোসেন হলে গিয়ে সহকারী প্রক্টর মো. মবিনুল ইসলাম এবং ছাত্রদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১নম্বর আলোচ্য বিষয় অনুযায়ী ৬৬ জন ছাত্রকে চার ধরনের শান্তির আওতায় আনার সুপারিশ করেন। তবে এ শান্তিসমূহ সাময়িকভাবে প্রদান করে কেন স্থায়ী শান্তি প্রদান করা হবে না মর্মে ১০ কার্যদিবস সময় দিয়ে আত্মপ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হলো।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, কর্তব্য পালনরত অবস্থায় সহকারী প্রক্টর মো. মবিনুল ইসলামের ওপর আক্রমণের ঘটনায় এআইই বিভাগের মো. নাইমুর রহমান দুর্জয়, অর্থনীতি বিভাগের সাকির মাহমুদ, ইসিই বিভাগের মো. সৌরভ আহমেদ, এফপিই বিভাগের মো.আসাদুজ্জামান সাগর, ইংরেজী বিভাগের আসিফ হোসেন ও একাউন্টিং বিভাগের তাসরিয়াফ ইসলাম প্রান্তিককে একাডেমিক কার্যক্রম হতে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
উচ্ছৃশঙ্খল আচরণের জন্য ৮ শিক্ষার্থীকে হল থেকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার ও লিখিত সতর্কীকরণ এবং ২ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়। তারা হলেন এআইই বিভাগের মো. মাহফুজার রহমান মাহিন, আর্কিটেকচার বিভাগের নাজমুস সাকিব, এফইপি বিভাগের আল আমিন, রসায়ন বিভাগের নাহিদ হাসান খোকন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মো.মাহবুবুল আলম, মার্কেটিং বিভাগের নাইম সরকার, রসায়ন বিভাগের নীলকন্ঠ রায় ও ফিসারিজ বিভাগের মো. শাহ আলম।
হাতে অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অপরাধে ছয় শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের (১ সেমিস্টার) জন্য একাডেমিক কার্যক্রম ও হল থেকে বহিষ্কার এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আর কখনও আবাসিক হলে বরাদ্দ পাবে না এবং অবস্থান করতে পারবে না। তারা হলেন রসায়ন বিভাগের সারোয়ার হোসেন শাওন ও মো. ইমরান হাসান, এফপিই বিভাগের মো.আউয়াল মিয়া, মার্কেটিং বিভাগের মো. আসাদুজ্জামান নুর, রিফাত হোসেন অভিরাজ ও মিজানুর রহমান।
অস্ত্র হাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুরের অভিযোগে ৪৬ শিক্ষার্থীকে এক বছরের (২ সেমিস্টার) জন্য একাডেমিক কার্যক্রম হতে বহিষ্কার ও হল হতে বহিষ্কার এবং ১০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আর কখনও আবাসিক হলে বরাদ্দ পাবে না এবং অবস্থান করতে পারবে না। তারা হলেন অর্থনীতি বিভাগের মো.তহিদুল ইসলাম তুরাগ, দুর্জয় চন্দ্র বর্মন, মো. সজিব হোসেন, মো. খায়রুল ইসলাম, আশেক-ই-এলাহী অপু, এফ এন শাবীন সিদ্দিকী ও আখতারুজ্জামান আরিফ, সিএসই বিভাগের মো. শাওন প্রধান, গণিত বিভাগের মো. মুরতাজিম বিল্লা মাধুর্য, সোহেল রানা ও আবরার হাসিন আরেফি, ডিভিএম বিভাগের তামিম ইকবাল, মো. আসিফ কাফি, এম এইচ জামান, ফাহাদ আল সাহাব প্রান্ত, মমিনুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান, এগ্রিকালচার বিভাগের মুঈন রোমান তুলন ও তানজিম মোস্তাফিজ রিফাত, পদার্থ বিদ্যা বিভাগের মো. আরাফাত হোসেন, সিভিল বিভাগের এমদাদুল ফেরদৌস জিম, ফিসারিজ বিভাগের এস এইচ কে মারুফ, পরিসংখ্যা বিভাগের মো. জাফর সিদ্দিক জিসাদ, মুরসালিন আহম্মেদ সিয়াম, জগন্নাথ অধিকারী জিয়ন ও মো. রিফাতুল ইসলাম, সিভিল ইঞ্জিনিয়াররিং বিভাগের অংকুর পাল, শাহাদাৎ হোসেন আনন্দ, মুনতাকিস মামুন ও মেহেদি সুলতান সোহান, এফপিই বিভাগের ফরিয়াদ হোসেন, ফয়সাল হোসেন ও মো. সাজেদুর রহমান ও মো. আমির হামজা, এআইই বিভাগের মো.সাত্তার মিয়া, ইমন মাহাবুব ইমু, রাহিমুল হোসেন রাহাত, মো. খামেদুল বাসার ও মো. শায়খ ইমাম হাসান, এআইএস বিভাগের আশেক-উদ-দৌলা নিলয় ও সুজন মিয়া, ইংরেজী বিভাগের শাশ্বত দাস বিবেক ও শফিকুল ইসলাম, কৃষি বিভাগের মো. আব্দুল্লাহ আল মারুফ, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের মেহেরাব হোসেন মুসা, রসায়ন বিভাগের ফজলে রাব্বী।