কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে যুবদল নেতার নেতৃত্বে দুই তরুণীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে রাতভর আটক রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ধর্ষণের ভিডিও করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
গত বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের সেবাখোলা নামক স্থানে খোকনের স’ মিলের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। রবিরার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই তরুণী বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছেন নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
অভিযুক্তরা হলেন— উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. মহসিন। তিনি বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের রঞ্জু মিয়ার ছেলে। অন্যজন স' মিলের মালিক খোকন মিয়া, চা দোকানদার কবির আহম্মদ। বাকিদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায় নি।
ভুক্তভোগী দুই তরুণী জানান, আমাদের দুই বোনকে ১০-১২ জন মিলে একটি স' মিলে সংবদ্ধ ধর্ষণ করেছে। এর মধ্যে দুইজন আমাদের সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করেছে। সবার মুখ দেখলেই চিনতে পারবো আমি। স’মিলের মালিক ছিল।
তারা জানান, আমাদের প্রথমে অটোরিকশায় করে নিয়ে বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরাঘুরি করে। আমরা বুঝতে পারি তাদের উদ্দেশ্য ভালো না তখন আমাদের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। কেউ ছিল না আশেপাশে তখন। পরে আমাদের একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে আমাদের ধর্ষণ করে। পরে মারধর করে জোর করে ভিডিও করে। এ সময় আমি চিৎকার দিলে, আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে এটা শুনে আমার বোন চুপ হয়ে যায়। দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত আমাদের সাথে এসব চলে। স’মিলের মালিক সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। পরে, আমাদের তারা রাতেও রাখতে চায়। কিন্তু আমরা হাতে পায়ে ধরে তাদের থেকে ছাড়া পেয়েছি। আমাদের অটোতে তুলে দিয়ে অটোচালককে হুমকি দিয়ে বলেন, সোজা আমাদের চৌদ্দগ্রাম বাজারে নামিয়ে দিতে এর মধ্যে কোথাও যেন না দাঁড়ায়। আমাদের সাথে অন্যায়ের বিচার চাই আমরা।
রবিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছে না। স' মিলের মালিক খোকন মিয়া ঘটনার পর পর পলাতক রয়েছেন। প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. মহসিনও এলাকায় নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ঘটনা এলাকাতে জানাজানি হওয়ার পর মহসিনকে গ্রামে দেখা যাচ্ছে না। অপরাধী যেই হোক না কেনো আমরা তার শান্তি চাই।
অভিযুক্ত স' মিলের মালিক খোকন মিয়া বলেন, জোরপূর্বকভাবে আমার স’মিলে দুই মেয়ে নিয়ে ঢুকে যুবদল নেতা মহসিন। এ সময় তার সাথে আরও ১০-১২ জন ছিল। আমি কিছু করিনি, তারাই সব করছে। আমাকে কল দিলে আমি বিষ খেয়ে মরে যাবো।
এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা মহসিনের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি।
তবে অভিযুক্ত মহসিনের বাবা রঞ্জু মিয়া বলেন, আমার ছেলে বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন অপপ্রচার হয়। এছাড়া আমার ছেলে নির্দোষ।
নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেনি। তবে কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার এসব অপকর্ম করে, আমরা তার দায়ভার নিবো না। অপরাধীকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হোক।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, দুই কিশোরী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আমরা তাদের কাছে ঘটনা জানতে চাচ্ছি। বিস্তারিত পরে বলবো।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমিন সরকার বলেন, ওসিকে বলা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।