মোরশেদা সুলতানা লিমার জন্ম চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তার বাবা চাকরি করতেন ওখানে। অবশ্য পড়াশুনা আর বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে। পাঁচ বোনের চতুর্থ মোরশেদা মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতকের গন্ডি পেরিয়ে ১৯৯৭ সালে ঢাকায় ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মজীবন শুরু করেন। সন্তান জন্মের পর আর চাকরি করতে পারেননি। এরপর শুরু করেন নিজ বাসায় কোচিং-টিউশনি।
দীর্ঘসময় এভাবে চলতে থাকলেও করোনাকালে হয়ে পড়েন বেকার। তিন মাস বেকার থাকার পর পিঠা এবং হাতের কাজের পণ্য নিয়ে শুরু করেন ‘টিপটপ নকশিময় রান্নাঘর’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বলে জানান মোরশেদা সুলতানা লিমা। মোরশেদা জানান, ‘ঘরে বসেই বর্তমানে ৮০ হাজারের বেশি ফলোয়ার সমৃদ্ধ পেজের মাধ্যমে মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করছি। যে কোনো কাজের শুরুতে বাধা আসবেই। যেমন আমার পরিবারের সম্মতি থাকলেও শুরুতে সাপোর্ট করেনি আমার স্বামী, ভালো চোখে দেখেনি আত্মীয়স্বজন। অনেকে ভেবেছেন সংসারে অভাব-অনটন বেশি, তাই খাবার বিক্রি করে সংসার চলাচ্ছি। কিন্তু এখন অনেকেই আমাকে নিয়ে গর্ব করে।’
‘টিপটপ নকশিময় রান্নাঘর’ উদ্যোগের সব পণ্যই মূলত উত্তরাঞ্চলের। তার পণ্যের তালিকায় আছে পোশাক, কুশন-বেড কভার, নকশিকাঁথা, সব ধরনের পিঠা, খেজুর ও আখের গুড়, মধু, ঘি, শজিনা পাতার গুঁড়া ইত্যাদি।
তার সহযোগিতায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশ কয়েকজন নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে।
ঢাকার বনশ্রীতে বসবাস করেন। ব্যবসার পুরোটাই অনলাইনে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মোরশেদা জানান, ‘একটাই স্বপ্ন, খাবার ও হাতের কাজের পণ্যের আলাদা দুটি নিজেস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করা।’