গর্ভাবস্থার শুরুতেই কি করণীয়?

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, কারণ এ সময় ভ্রূণের প্রধান অঙ্গগুলো গঠিত হয়। এই সময় মা এবং শিশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কিছু করণীয় বিষয় মেনে চলা উচিত। গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস গর্ভের শিশুর অভ্যন্তরীণ গড়ন আর গঠনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো গড়ে ওঠে।

গর্ভাবস্থার শুরুতেই মায়ের শরীর আর মনের ওপর দিয়েও যায় মাতৃত্বকালীন পরিবর্তনের প্রথম ধাক্কা। অনেক মা এই সময়টায় অসুস্থ বোধ করেন, মন মেজাজও হয়ে যেতে পারে তিরিক্ষি। অনেকেই বমি এবং খেতে না পারার সমস্যায় ভোগেন। আর তাই গর্ভাবস্থার শুরুতে প্রত্যেক মায়েরই প্রয়োজন বাড়তি যত্ন ও করণীয়। 

 গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস একজন মায়ের কি কি করণীয় তা এখানে আলোচনা করা হলো, 

১. পুষ্টিকর খাবার খাওয়া 

গর্ভাবস্থার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফল, শাকসবজি, দানাশস্য, এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালং শাক, কমলালেবু, ব্রোকলি) এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে। এ সময় প্রচুর পানি পান করুন এবং ক্যাফেইন ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন।

২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম

গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মায়েরই ক্লান্ত অনুভব হয়। এ সময় ক্লান্তি অনুভব করলে বিশ্রাম নিন। নিয়মিত ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। শরীরচর্চা এবং বিশ্রাম ও হালকা ব্যায়াম করুন। সকালে কিংবা রাতে খাওয়ার পর একটু হাঁটাহাঁটি করলে শরীর ভালো থাকে এবং ক্লান্তি দূর হয়।

৩. ডাক্তারের পরামর্শ

গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই নিয়মিত ডাক্তারের কাছে চেকআপ করানো উচিত। এতে মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়। এরজন্য চিকিৎসকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা উচিত। নিয়মিত প্রসবপূর্ব পরীক্ষা করানো উচিত। গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে কমপক্ষে একবার চিকিৎসক দেখানো উচিত।

৪. মানসিক স্বাস্থ্য  

গর্ভাবস্থায় ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা খুবই খারাপ। তাই এ সময় উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন। যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের মাধ্যমে মন শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। গর্ভবতী নারীদের জন্য নির্দিষ্ট যোগব্যায়াম ও হালকা ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে যেকোনো ব্যায়ামের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। হালকা শারীরিক কার্যক্রম বা হাঁটাহাঁটি করুন। ভারী শারীরিক পরিশ্রম বা ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম এড়িয়ে চলুন।

৫. স্বাস্থ্যকর অভ্যাস 

গর্ভাবস্থায় ধূমপান ও অ্যালকোহল সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। নিজেকে দূষণ ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করুন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলুন ও অতিরিক্ত ওজন বা ওজন হ্রাসের ঝুঁকি এড়ানোর চেষ্টা করুন। গর্ভাবস্থায় এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে মা এবং শিশু উভয়ের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

৬. ঔষধ ও সাপ্লিমেন্ট বিষয়ে সতর্ক থাকুন

গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেল সাপ্লিমেন্ট নিন। বমি বমি ভাব ও অসুস্থতার জন্য প্রস্তুত থাকুন। সকালে বমি বা অস্বস্তি অনুভব করলে শুকনা বিস্কুট বা হালকা খাবার খান। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।