যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পরও ক্ষমতায় থাকার জন্য অপরাধমূলক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল ফৌজদারি অপরাধও। তবে গত ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ের কারণে তার বিরুদ্ধে আর আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তাই তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ থাকলেও, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয় বলে সে পথের ইতি টেনেছেন ইউএস স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথ। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জ্যাক স্মিথের তদন্ত প্রতিবেদন। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর ভোট সংগ্রহ ও প্রত্যয়নে বাধা প্রদানের জন্য একাধিক অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন স্মিথ।
স্মিথের প্রতিবেদনের অধিকাংশ তথ্য-উপাত্ত আগেই উন্মুক্ত করা হয়েছিল। স্মিথের মতে, মামলা লড়ার জন্য যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকলেও, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে গেছে। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনার জন্য অনবরত আক্রমণাত্মক বক্তব্য সহ্য করে গেছেন স্মিথ। এমনকি নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই ট্রাম্প বলে আসছেন, নির্বাচিত হলে স্মিথকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেবেন তিনি। প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, স্মিথ একজন অপদার্থ প্রসিকিউটর, যিনি নির্বাচনের আগে মামলা শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডকে লেখা চিঠিতে স্মিথের প্রতিবেদনকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের ঠিক আগে দিয়ে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন প্রেসিডেন্সি হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। চিঠিটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করেছে বিচার বিভাগ। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন কিছু জিনিস জানা গেছে। যেমন, ক্যাপিটল হিলে হামলার জন্য দেশদ্রোহ মামলায় ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন প্রসিকিউটররা। তবে যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে সেই পরিকল্পনা থেকে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে খুব দ্রুতই দেখা করার কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পরই তিনি এই সাক্ষাৎপর্ব সারবেন বলে জানিয়েছেন। গত সোমবার নিজেই এ কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।