পিএসএল খেলতে নেতৃত্ব ছাড়লেন ভিন্স, ইসিবির নীতি উপেক্ষা ৬ ক্রিকেটারের

ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) কড়া নীতিমালার বিরুদ্ধে গিয়ে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নাম লিখিয়েছেন ইংল্যান্ডের ৬ ক্রিকেটার। ইসিবির নিয়ম অনুযায়ী, দেশটির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা ঘরোয়া টুর্নামেন্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট এবং দ্য হান্ড্রেডকে প্রাধান্য দিতে বাধ্য। তবে তাদের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না পাওয়ার শঙ্কা সত্ত্বেও জেমস ভিন্স, টম কোহলার-ক্যাডমোর, ডেভিড উইলি, ক্রিস জর্ডান, স্যাম বিলিংস ও টম কারান পিএসএলে নাম লিখিয়ে আলোচনায় এসেছেন।

বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, কাউন্টির দল হ্যাম্পশায়ারের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন জেমস ভিন্স। ফলে করাচি কিংসের হয়ে পুরো পিএসএল খেলতে আর কোনো বাধা থাকছে না তার। দলটি তাকে রিটেইন করেছে ১ লাখ পাউন্ডে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, পেশাওয়ার জালমি ড্রাফট থেকে টম কোহলার-ক্যাডমোরকে কিনে নিয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে (প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ টাকা)। ডেভিড উইলি ও ক্রিস জর্ডানকেও তাদের পুরনো দলগুলো ধরে রেখেছে।

ইসিবি সম্প্রতি ঘোষণা দেয়, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা ঘরোয়া টুর্নামেন্টের সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন না। আইপিএলের জন্য ছাড়পত্র দিলেও পিএসএলসহ অন্য লিগের ক্ষেত্রে তারা কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

তবে এই নীতিমালার বিরোধিতা করে বিদ্রোহের পথে হাঁটছেন একাধিক ইংলিশ ক্রিকেটার। পিএসএলে নাম লিখিয়েছেন এমন খেলোয়াড়রা ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট মিস করতে পারেন। বিশেষত, জেমস ভিন্স পিএসএল খেলতে গেলে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ছয়টি ম্যাচ খেলতে পারবেন না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ইসিবির নিয়ম ভঙ্গ করে আরও ক্রিকেটার পিএসএলে নাম লেখাতে পারেন। উইকেটরক্ষক ব্যাটার জনি বেয়ারস্টো, ওলি পোপ, জ্যাক ক্রাউলি, গাস অ্যাটকিনসন এবং ম্যাট পটস ইতিমধ্যে ড্রাফটে অংশ নিতে চেয়েছিলেন।

পাকিস্তান সুপার লিগের ২০২৫ আসর পিছিয়ে ৮ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে আইপিএল ও ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম পর্বও অনুষ্ঠিত হবে। ফলে বিদেশি ক্রিকেটারদের পিএসএলে অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।

ইসিবির এমন কড়া নীতি সত্ত্বেও জেমস ভিন্স ও টম কোহলার-ক্যাডমোরসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড় পিএসএল খেলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর ফলে ইংলিশ ক্রিকেটে নতুন ধরনের বিরোধের সূচনা হয়েছে।