মাহবুব কবিরের কবিতা

পাখিদের আমি প্রেম করি

পাখিরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি করে না,

তারা প্রেসিডেন্ট,

প্রধানমন্ত্রী চেনে না।

গুজরাটের কসাই,

মিয়ানমারের জান্তা,

ব্যস্ত বাবুলের বন্ধু ট্রাম্প,

ভদকা পুতিনকেও চেনে না।

 

মঙ্গল গ্রহ প্রশ্নে কোকিল বলল, কুহু...।

জাতিসংঘ প্রশ্নে কাক কা-কা করতে করতে

কী সুন্দর হাগু করে দিল পুলিশের মাথায়।

 

পাখিদের আমি প্রেম করি, শ্রদ্ধা করি

তোমাকে করি করুণা।

ঢেণঢণ পা সমীপে

 

বিপ্লব আসে বিপ্লব যায়,

আমাদের দিনগুলি পিঁপড়ায় খায়।

 

মাঠে মাঠে সোনালি ধানের হাসি,

‘হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী’।

ও রাধে

 

আমি তোমার ঊরুর পিঠে কালিজিরা তিল,

আমি তোমার বাড়ির পাশে শাপলা-ভরা সোনাগাছি বিল।

 

আমি তোমার নাকের চূড়ায় বিন্দু বিন্দু ঘাম,

আমি তোমার ঝড়ের শেষে কুড়িয়ে পাওয়া এত্তগুলি আম।

 

আমি তোমার নকশি কাঁথা বোনার সময় সুইয়ের একটু ঘা,

আমি তোমার রাতদুপুরে ঘুমের ঘোরে আবোলতাবোল রা।

 

আমি তোমার চূর্ণ ঘুমের ওম-জড়ানো শিশির-ভেজা ভোর,

আমি তোমার পাথর-বসা নাকছাবিতে দুরন্ত রোদ্দুর।

 

আমি তোমার গোসল শেষে বুকের ভাঁজে একটুখানি জল,

আমি তোমার পোষের রাতে শুকনো পাতায় অগ্নি-কোলাহল।

শাহবাগে ঘুরি

 

শাহবাগে ঘুরি কবিদের পাড়ায়।

পিজি চত্বরে ঢুকেই দেখি আলোকিত সাবদার মঞ্চ,

দূর থেকে ভেসে আসে ইচক দুয়েন্দের গলা

গরুর মতো রবীন্দ্রনাথ গাইছেন,

‘তাই হোক তবে তাই হোক, দ্বার দিলেম খুলে’। 

পাশে লুবলুব বৃক্ষের নিচে ভূতের মতো

বসে আছেন শোয়েব শাদাব।

সিগারেট বাড়িয়ে বললেন

বসো, বনমোরগের মাংস খাও... এজরা পাউন্ড আসবে।

কুকুরটি

 

কুকুরটি চুপচাপ শুয়ে আছে পাশে

নাকি আমি শুয়ে আছি পাশে?

কার্তিকের বিকেলবেলায়

কুকুরটি মৃত্যুচিন্তা করে,

শীতচিন্তা করে,

            আমারই মতো।

মীনের ইশারা

 

এখন কার্তিক মাস

পানি কমে গেছে।

মগড়ার তীরে বসে

লোকটি, কী করছে?

 

সুতা ধরে বসে থাকা

নব চন্ডীদাস,

সুন্দরী বোয়াল মাছে

করেছে উদাস।

 

আমিও প্রেমিক এক

বাউলের ধারা,

চিরদিন চিররাত

মীনের ইশারা।