লক্ষীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. ফয়েজ আহমদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় এ অভিযোগ দায়ের করেন ফয়েজ আহমেদের ছেলে ডা. হাসানুল বান্না। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, র্যাব-১১ এর সাবেক সিইও তারেক সাইদ মোহাম্মদ।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে ফয়েজ আহমেদকে নিজ বাসার ছাদে নিয়ে আঘাত করে, গুলি করে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে র্যাবের স্টিকার যুক্ত একটি গাড়িতে করে বাসায় এসে লোহার গেট ভেঙে ফয়েজ আহমেদকে বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে ধরে নিয়ে বিল্ডিংয়ের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশে আসামি তারেক সাইদ মোহাম্মদ তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফয়েজ আহমেদের ডান হাঁটুর ওপরে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে।
তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তৃতীয় তলার ছাদের ওপর থেকে উপুড় করে বিল্ডিংয়ের সামনের অংশের নিচে ফেলে দেওয়া। হত্যার কারণ সম্পর্কে অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি জামায়াতসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করে আসছিল। সে আন্দোলন দমন ও নির্মূলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীসহ বিরোধীদের দমনে হত্যা-গুমের আশ্রয় নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ফয়েজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।