এমন দুর্বার রূপে বহুদিন দেখা যায়নি মোহামেডানকে। যে দলটি পেশাদার যুগে একবারও শিরোপা জিততে পারেনি, সেই সাদা-কালোরাই ঝড়ের গতিতে ছুটছে শিরোপার দিকে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম রাউন্ডের ৯ ম্যাচের প্রথম আটটিতেই জিতে পয়েন্ট টেবিলে রাজত্ব করছে আলফাজ আহমেদের শিষ্যরা। শুক্রবার ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে মতিঝিল জায়ান্টরা। মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মোহামেডানের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ইমানুয়েল সানডে।
জয়রথ জারি রাখা মোহামেডানের থলেতে এখন ২৪ পয়েন্ট। লিগের প্রথম পর্বে অন্তত তাদের পেছনে ফেলার মতো কেউ রইল না। প্রথম পর্বে তাদের শেষ ম্যাচটি ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সের বিপক্ষে। অবনমন ঝুঁকিতে থাকা ফকিরেরপুলে পা না হড়কালে অনেকটা এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাবে মোহামেডান। এ মুহূর্তে লিগ টেবিলে তাদের সবচেয়ে কাছে অবস্থান চিরশত্রু আবাহনীর। সাত ম্যাচ থেকে আকাশি-হলুদ জার্সিধারীদের সংগ্রহ ১৬ পয়েন্ট। অর্থাৎ ব্যবধানটা পরিষ্কার ৮ পয়েন্টের।
ফেডারেশন কাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর আলফাজ আহমেদের দলের লক্ষ্য এখন লিগের আধিপত্য ধরে রাখা। সেটা করতে গিয়ে তাদের ম্যাচ বাই ম্যাচ পা ফেলতে হচ্ছে। ফেডারেশন কাপে আবাহনীর কাছে হারার পর তারা লিগে রহমতগঞ্জকে হারায় ৩-১ ব্যবধানে। রহমতগঞ্জের মতো এই লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়নও খেলছিল বদলে যাওয়া ফুটবল। শুক্রবারই তারা দ্বিতীয় হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে। ৮ ম্যাচ থেকে চার জয় ও দুই ড্রয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে চতুর্থ স্থানে। শুক্রবার ঘরের মাঠে ব্রাদার্সের সুযোগ ছিল দুইয়ে ফেরার। সেটা হয়নি দলের ফরোয়ার্ডরা বেশ ক’টি সুযোগ নষ্ট করায়।
মোহামেডান আক্রমণাত্মক ফুটবলে চেয়েছে শুরুতেই ব্রাদার্সকে চাপে ফেলতে। ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটে গোলটাও পেয়ে যায় তারা। বক্সের বাইরে ব্রাদার্সের ডিফেন্ডাররা তালগোল পাকালে বল চলে যায় জুয়েল মিয়ার পায়ে, নিখুঁত থ্রু পাস বাড়ান ইমানুয়েল সানডেকে। এই ফরোয়ার্ড কোনাকুনি শটে বল দূরের পোস্টে জড়িয়ে দেন। গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানার আসলে কিছুই করার ছিল না তখন। পিছিয়ে পড়ে ব্রাদার্স চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফেরার। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সতীর্থের ক্রসে সুশান্ত ত্রিপুরার হেড পোস্টের বাইরে গেলে ভালো একটা সুযোগ নষ্ট হয় ব্রাদার্সের। মোহামেডান গোল পেতে পারত বিরতিতে যাওয়ার আগেই। তবে রানার কৃতিত্বে সে যাত্রায় বেঁচে যায় ব্রাদার্স, সুলেমান দিয়াবাতের পাসে জুয়েলের শট আটকে দেন এই অভিজ্ঞ কিপার।
দ্বিতীয়ার্ধে মোহামেডানের খেলায় ব্যবধান বাড়ানোর তাগিদ দেখা যায়নি খুব বেশি। তারপরও আক্রমণে এগিয়ে ছিল তারাই। ৫৬ মিনিটে সতীর্থের পাসে সানডের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। এরপর থেকে মোহামেডান গোল আগলে রাখার দিকেই মনোযোগী হয় বেশি। নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ব্যবধান বাড়ানোর বড় সুযোগ হাতছাড়া করে অবিশ্বাস্য মিসে। ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে আক্রমণে উঠেছিলেন আরিফ হোসেন। নিজেই পারতেন শট নিতে। তবে গোল নিশ্চিতের জন্য রানাকে একা পেয়েও বল দেন সানডেকে। তবে এই নাইজেরিয়ান ছোট ডি-বক্স থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বল তুলে দেন রানার হাতে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরার সেরা সুযোগ নষ্ট করেন ব্রাদার্সের চিক সিনে। ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়েছিলেন সেনেগালের এই ফরোয়ার্ড। গোলকিপার সুজন হোসেন ফিস্ট করলে বল ফের চলে যায় সিনের পায়ে, এবার ফাঁকা পোস্টে বল রাখতে পারেননি তিনি, তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে অবিশ্বাসে মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে পারেন সিন। এর খানিক বাদেই শেষ বাঁশি বাজলে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোহামেডান।
দিনের অন্য ম্যাচে ভুগতে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনী প্রথম জয় ও পয়েন্টের স্বাদ পেয়েছে অষ্টম ম্যাচে এসে। রফিকউদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশকে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ফাহিম মোরশেদ জয়সূচক গোলটি করেন চট্টগ্রাম আবাহনীর পক্ষে। টানা সাত ম্যাচ হারার পর তারা জয় পেলেও তিন পয়েন্ট নিয়ে থাকছে তলানিতেই।
গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে অবনমন ঝুঁকিতে থাকা ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স মুখোমুখি হয়েছিল একে অপরের। ওয়ান্ডারার্সকে ৪-১ গোলে জিতে ফকিরেরপুল শিবিরে ফিরেছে স্বস্তি। দলটির হয়ে ১৭ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন রাফায়েল টুডু। এরপর ৪৯, ৭০ ও ৮৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান তিন উজবেক- কোচনেভ, জনভ ও তুরায়েভ। শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে হারের ব্যবধান কমিয়েছেন সাকিব ব্যাপারী। টানা তিন হারের পর জয়ে ফেরা ফকিরেরপুল ৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে আটে। ওয়ান্ডারার্স ৯-এ আছে দুই পয়েন্ট কম নিয়ে।