দীর্ঘ ১৫ মাসের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের পর অবশেষে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তির অনুমোদন করেছে দখলদার দেশ ইসরায়েলের পূর্ণ মন্ত্রিসভা। আগামীকাল রোববার থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে উপত্যকাটিতে।
এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা করার পর শনিবার ভোরে ইসরায়েলি সরকার এই চুক্তি অনুমোদন করে। খবর আল জাজিরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরায়েলি সরকার জিম্মিদের প্রত্যাবর্তনের কাঠামো অনুমোদন করেছে। জিম্মিদের মুক্তির কাঠামো রবিবার থেকে কার্যকর হবে।‘
মন্ত্রিসভায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদনের পর, দেশটির কর্তৃপক্ষ চুক্তির প্রথম ধাপে ৭৩৭ ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। আশা করা হচ্ছে যুদ্ধবিরতিতে ধাপে ধাপে এদেরকে মুক্তি দেয়া হবে।
এই তালিকায় হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাসীন ফাতাহ আন্দোলনের বেশ কয়েকজন সদস্যও রয়েছে, যারা ইসরায়েলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কিছু কঠোরপন্থির তীব্র বিরোধিতার মুখেও নেতানিয়াহুর জোট সরকারের ২৪ জন মন্ত্রী এই চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ ছাড়া আটজন সদস্য এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির পক্ষে ভোট দেয়।
এদিকে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি প্রথমে ছয় সপ্তাহের জন্য কার্যকর হবে। যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনেই ৯৫ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল সরকার। এর মধ্যে মধ্যে ৬৯ জন নারী, ১৬ জন পুরুষ এবং ১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ৯৫ জনের নামও প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের বিচারবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এই ৯৫ জনের বিনিময়ে ৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে ছেড়ে দেবে হামাস। ওই ৩ জনের নামও ইসরায়েলের সরকারের কাছে পাঠিয়েছে গোষ্ঠীটি।
রোববারের বন্দীদের মুক্তির পর চুক্তি অনুযায়ী সাতদিন পরে আরও চারজন নারী বন্দী মুক্তি পাবে এবং এরপরে প্রতি সাতদিন অন্তর আরও তিনজন বন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার অনেক এলাকা থেকে সরে আসবে এবং লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি তাদের উত্তরাঞ্চলের বাড়িগুলোর ধ্বংসাবশেষে ফিরে আসার সুযোগ পাবে।
আনাদোলু জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব হবে ৪২ দিন। তবে পরবর্তীতে এই মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে গত বুধবার কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলা গাজায় অব্যাহত রয়েছে। ঘোষণার পর থেকে প্রায় ১২০ জন মানুষ নিহত হয়েছে।