কমলনগর হাসপাতালে যোগদান করে লাপাত্তা ২ ডাক্তার

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন ডা.খালেদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ও গাইনী কনসালটেন্ট ডাক্তার শামসুন নাহার যোগদানের পর দীর্ঘ বছর অনুপস্থিত রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানান, ডাক্তার খালেদ ইবনে আব্দুল্লাহ ২০২৩ সালে ১ আগস্ট হাসপাতালে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করে জেলা সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছে। এদিকে গত ২০১৯ সালের ৫ মে গাইনি কনসালটেন্ট হিসেবে ডাক্তার শামসুন নাহার যোগদান করে ডেপুটেশনে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দুজনই কমলনগর হাসপাতাল থেকে বেতন ভাতাদি তুলছেন। দুই ডাক্তারের পরিবর্তে এখন পর্যন্ত কেউ যোগদান করেনি। এ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার নাজনীন আক্তার যোগদান করার পর হাসপাতালে আসেনি। তার ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।  

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেশি, তবে ডাক্তার সংকট রয়েছে। ঠিকমত রোগের চিকিৎসা দিতে ডাক্তারদের সমস্যা ও ভোগান্তি হচ্ছে। প্রতিদিন হাসপাতালে ৩-৪শ বিভিন্ন ধরনের রোগীর ভিড় দেখা যায়। নারী-পুরুষ ও শিশু রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে বহিঃবিভাগ ও জরুরি বিভাগ। 

মেডিকেল, সার্জন, গাইনি ডাক্তার বদলে বেশি রোগী দেখছে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল (সেকমো) ডাক্তারগণ। মেডিকেল অফিসার ৩জনের মধ্যে একজন প্রায় সময় অনুপস্থিত থাকছে। কনসালটেন্ট অফিসার ৪ জনের মধ্যে দুজন উপস্থিত রয়েছে। ২৪ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৮জন। 

স্থানীয় রোগীদের মতে, উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র কেন্দ্র হচ্ছে হাসপাতালটি। হাসপাতালে রোগীদের ভিড় দেখা গেলেও সঠিক সময়ে ডাক্তার সংকটে রোগের সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। ঠিকমত ডাক্তারগণ রোগীর চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেক সময় রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে কষ্টে দালালের মাধ্যমে প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। পরিমাণ মতে ডাক্তার না থাকায় চরম ভোগান্তি পড়ছে রোগীরা। উপজেলার বেশির ভাগই মানুষ গরীব অসহায়, তারা উন্নত চিকিৎসা নিতে পারে না। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দৌঁড়ে আসে, তবে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু কোলে চটপট করে। হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের মেশিন বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত নেই। থাকলেও কাজ হচ্ছে না। তখন নিরুপায় হয়ে বাহিরে থাকা প্রাইভেট হাসপাতালে বেশি টাকা দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। গরীব-অসহায় মানুষের পক্ষে ব্যয় বহুল খরচ করা সম্ভব হয় না। স্থানীয় রোগীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

সহকারী সার্জন ডাক্তার খালেদ ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি কমলনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর জেলা সদর হাসপাতালে ডেপুটেশনে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে তার পরিবর্তে কোনো সার্জন ডাক্তার দেওয়া হয়নি। গাইনি কনসালটেন্ট ডাক্তার শামসুন নাহার বলেন, তিনি ৫ বছর পূর্বে কমলনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যোগদানের পর ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পরিবর্তেও কোনো গাইনী কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হয়নি। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মীর আমিনুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, তারা দুজনই যোগদান করেন। তবে কেউ হাসপাতালে ডিউটি করেনি। তারা ডেপুটেশনে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন জানান। 

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন। তিনি মাত্র যোগদান করেন। তবে খুব শীর্ঘ হাসপাতাল সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।