চতুর্থ বাছাইদের হারিয়ে চতুর্থ রাউন্ডে স্বামী-স্ত্রী

৩৮ বছরের বুড়ো গয়েল মনফিলস পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন কিংবদন্তি রজার ফেদেরারের। শনিবার বিশ্বের চতুর্থ বাছাই টেইলর ফ্রিটজকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চতুর্থ রাউন্ড অর্থাৎ শেষ ষোলোয় উঠেছেন তিনি। এই বয়সে এসে এর আগে এমন কীর্তি গড়তে পেরেছিলেন কেবল ফেদেরারই। ফ্রিটজের ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে নারীদের চতুর্থ বাছাই জেসমিন পাওলিনিকে। দুবারের এ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালিস্টকে হারিয়েছেন মনফিলসের স্ত্রী ২৮তম বাছাই ইউক্রেনের এলিনা ভিতোলিনা। তবে অনন্য কীর্তি গড়েছেন ইভা লিস। ১৯৮৮ সালে মেলবোর্ন পার্কে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু হওয়ার পর প্রথম ‘লাকি লুজার’ হিসেবে নাম লিখিয়েছেন শেষ ষোলোতে।

২০২০ আসরে ৩৮ বছর বয়সে সেমিফাইনাল খেলেছিলেন টেনিস কিংবদন্তি রজার ফেদেরার। সেটিই ছিল তার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শেষ আসর। এবারের মৌসুমে অকল্যান্ড ওপেনের শিরোপা জিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলতে নামেন ফ্রান্সের মনফিলস। ১৯৯০ সালের পর সবচেয়ে বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে হার্ড কোর্টটির শিরোপা জেতার কীর্তি গড়েন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তাকে নিয়ে বড় একটা আশা করা হয়নি। সে জন্যই হয়তো হারানো কিছু ছিল না মনফিলসের। মার্গারেট কোর্ট অ্যারেনায় মনফিলস কতটা অপ্রতিরোধ্য ছিল তা ফুটে উঠেছে ফ্রিটজের ভাষায়, ‘তাকে ভোগানো সত্যিই দুরূহ ছিল। সবকিছুই ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি। মনে হচ্ছিল আমার শটে কোনো শক্তিই ছিল না। তিনি দারুণ খেলেছেন, সত্যিই দারুণ।’ ম্যাচে ২৪টি এইস সার্ভ করেন মনফিলস। প্রথম সেট ৩-৬ গেমে হারার পরের ৩ সেট মনফিলস জেতেন ৭-৫, ৭(৭)-৬(১) ও ৬-৪ ব্যবধানে। শেষ ষোলোতেও মনফিলসের সামনে বাধা যুক্তরাষ্ট্রের আরেকজন, ২১তম বাছাই বেন শেলটন। সরাসরি সেটে মার্কোস জিরোনকে হারিয়েছেন শীর্ষ বাছাই ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইয়ানিক সিনার। জয় পেয়েছেন ৮ম বাছাই অ্যালেক্স ডি মিনর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বছরের তরুণ অ্যালেক্স মিচেলসন।

ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া ২৩ বছরের জার্মান তরুণী ইভা লিস বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের ১২৮তম বাছাই। কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়ার পরও ‘লাকি লুজার’ লিস সুযোগ পেয়ে যান অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মূল পর্বে খেলার। নারী এককের তৃতীয় রাউন্ডে শনিবার রোমানিয়ার জ্যাকলিন ক্রিস্টিয়ানকে। আর তাতেই তিনি গড়েছেন অনন্য কীর্তি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম ‘লাকি লুজার’ হিসেবে নাম লিখিয়েছেন শেষ ষোলোতে। শনিবার ক্রিস্টিয়ানের কাছে প্রথম সেটে ৪-৬ গেমে হেরে যান লিস। পরের দুই সেটে ঘুরে দাঁড়ান ঠিকই। দুটি সেটই জেতেন ৬-৩ ব্যবধানে। এ জয়ের পর পরাবাস্তব অনুভূতিবোধ হয়েছে লিসের। বলেছেন, ‘আমার কাছে এটি কোনোভাবেই বাস্তব মনে হচ্ছে না। নিশ্চিতভাবেই এটি আমার জন্য চমৎকার একটি পরিস্থিতি। বিশেষ করে আমি যেহেতু লাকি লুজার হিসেবে এখানে এসেছি।’

তবে শেষ ষোলোয় লিসের সামনে অগ্নিপরীক্ষা অপেক্ষা করছে। দুই গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ীর লড়াইয়ে ব্রিটিশ তারকা এমা রাদুকানুকে উড়িয়ে দিয়ে লিসের প্রতিপক্ষ হয়েছেন বিশ্বের দ্বিতীয় বাছাই ইগা সোয়ানতেক। ৬-১ ও ৬-০ ব্যবধানে জেতেন ৫টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী এ পোলিশ তারকা। নিজের দাদাকে এ জয় উৎসর্গ করে সোয়ানতেক বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল বল আজ আমার প্রতিটি কথা শুনছে।’ ভিতোলিনার কাছে পাওলিনি হেরেছেন ৬-২, ৪-৬ ও ০-৬ গেমের ব্যবধানে। সরাসরি সেটে জিতেছেন ষষ্ঠ বাছাই কাজাখস্তানের এলেনা রিবাকিনা। শেষ ষোলোয় উঠেছেন অষ্টম বাছাই যুক্তরাষ্ট্রের এমা নাভারো।