হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খান (৭৮) মারা গেছেন। তিনি গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে তিনি মারা যান। এর আগে সুবল চন্দ্র নামে এ মামলার আরেক আসামি গাইবান্ধা কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আবু ইউসুফ। তিনি জানান, এমপি লিটন হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন কর্নেল (অব.) আবদুল কাদের খান। গত বছর কারাগারে ব্রেন স্ট্রোক করলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৩ অক্টোবর আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান। কাদের খানের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খান ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটে প্রার্থী হিসেবে লাঙল প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হন। এ ঘটনায় লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকলী বুলবুল সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি দেখানো হয়।
২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানসহ ৭ আসামিকে এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এ ছাড়া লিটন হত্যার ঘটনায় অস্ত্র আইন মামলায় আবদুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।