‘বাউন্ডারি বড় হলে ব্যাটারদের মনে ভয় থাকে’

বাউন্ডারি সীমানা ছোট করার সমালোচনায় সরব ছিলেন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। মিরপুর ও সিলেটের মতো ছোট সীমানা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চট্টগ্রামে বাউন্ডারি বড় করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। সেই পরামর্শ মেনে চট্টগ্রামে বড় করা হয়েছে বাউন্ডারি সীমানা। ফলাফল—ব্যাটারদের দাপট কমে গিয়ে বেড়েছে বোলারদের আধিপত্য।

চট্টগ্রামে দুই পাশে ৭০ মিটার, স্কয়ারের একপাশে ৬৭ মিটার এবং অন্য পাশে ৬৯ মিটারের সীমানা রাখা হয়েছে। তুলনায় মিরপুর ও সিলেটে বাউন্ডারি ছিল অনেক ছোট। অন্য সবসময়ের তুলনায় এবার খানিকটা ছোট ছিল মিরপুরের বাউন্ডারির সীমানা। দুই পাশে ৫৭-৬০ মিটার রাখা হলেও পেছনে ৫৬ মিটার। লং অফ এবং লং অনের দিকে বাউন্ডারি রাখা হয়েছিল ৬৫-৭০ মিটারের মতো। সিলেটে সেটা আরও কমিয়ে আনা হয়েছিল। যেখানে প্রায় সব ম্যাচেই ৫৮-৬০ মিটারের সীমানা দেখা গেছে। একেবারের সামনে দেখা গেছে সর্বোচ্চ ৬৫ মিটার।

চট্টগ্রামের মাঠে বড় বাউন্ডারির কারণে ব্যাটারদের সহজে চার-ছক্কা মারার সুযোগ কমেছে। একাধিক ম্যাচে ইনিংসগুলো গুটিয়ে গেছে দেড়শ রানেও। বরিশাল ও রংপুরের ম্যাচে এমন ঘটনাই দেখা গেছে। তরুণ পেসার রিপন মণ্ডল মনে করেন, বড় বাউন্ডারির কারণে ব্যাটারদের মনে সংশয় তৈরি হয়।

রিপন বলেন, ‘বাউন্ডারি বড় হলে ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। আগে যদি ৬০-৬৫ মিটারের বাউন্ডারি থাকত, পেস ব্যবহার করেও হাফ হিটে ছক্কা হয়ে যেত। এখন সেটা কঠিন। বড় বাউন্ডারির কারণে ব্যাটারদের মানসিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। ভালো জায়গায় বল করলে রান তোলা সহজ নয়।’

চট্টগ্রামের বড় বাউন্ডারি নিয়ে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তামিম ইকবালও। তিনি মনে করেন, বড় সীমানা রাখলে বোলারদের ভালো জায়গায় বল করার সুযোগ বাড়ে। তরুণ পেসার রিপনও তামিমের সঙ্গে একমত। তার মতে, ভালো লাইন-লেংথে বল করলে ধারাবাহিকভাবে রান তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। চট্টগ্রামের উইকেটে ভালো বোলিং করেই দলকে সাহায্য করেছেন রিপন।

চট্টগ্রামের সবশেষ ম্যাচে চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রিপন মণ্ডল। জাতীয় দলের ইবাদত হোসেন ও শহিদুল ইসলামের মতো পেসারদের সঙ্গে সুযোগের লড়াইয়ে নিজের জায়গা তৈরি করছেন এই তরুণ।

এ প্রসঙ্গে রিপন বলেন, ‘দলে অনেক বড় বড় তারকা আছে। ইবাদত ভাই, শহিদুল ভাইদের সঙ্গে সুযোগের লড়াইটা কঠিন। তবে আমি যখন সুযোগ পাই, চেষ্টা করি শতভাগ দিতে। নিজের সেরাটা দিতে পারলে সেটা দল ও আমার জন্যই ভালো।’

ফরচুন বরিশাল স্কোয়াডে তারকার অভাব নেই। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে তামিম, শান্ত, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা আছেন। বিদেশিদের তালিকায় আছেন মোহাম্মদ নবি, ডেভিড মালান, জেমস ফুলারসহ আরও অনেকে। মাঠে বড় বাউন্ডারির নতুন সমীকরণেও বরিশাল নিজেদের শক্তি দেখিয়ে যাচ্ছে।

বাউন্ডারি বড় হওয়ার সঙ্গে পাল্টেছে ম্যাচের চিত্র। ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে নতুনভাবে উজ্জ্বল হচ্ছে বোলাররা। তামিমের নেতৃত্বে বরিশাল এখনো শিরোপার দাবিদার, আর তরুণ পেসার রিপনের মতো ক্রিকেটাররা ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগাচ্ছে।