ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক গল্প আছে যা কল্পনার চেয়েও অবিশ্বাস্য। পল ল্যামবার্টের ডর্টমুন্ডে যাত্রা এবং ইউরোপিয়ান ফুটবলের সেরা মঞ্চে তার জয়গাঁথা তেমনই এক ঘটনা। মাতারওয়েলের গ্লাসগোতে ৫০০ পাউন্ড সাপ্তাহিক বেতন পাওয়া এই মিডফিল্ডার ১৯৯৬ সালে চুক্তিহীন অবস্থায় জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেন এবং মাত্র এক বছরের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম খোদাই করেন।
১৯৯৬ সালে মাতারওয়েলের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার পর আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত ল্যামবার্ট বড় ঝুঁকি নেন। বন্ধু রবি ম্যাককিননের মাধ্যমে টন ভ্যান ডালেন নামক এক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভ্যান ডালেনের পরামর্শে ল্যামবার্ট অজানার উদ্দেশ্যে আমস্টারডামে উড়ে যান। সেখানে প্রথমে পিএসভি আইন্দহোভেনে ট্রায়াল দেন, কিন্তু সাফল্য মেলেনি।
কিন্তু দ্বিতীয় সুযোগ আসে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ট্রায়ালে। ১৯৯৪ সালে ইউরোপা লিগে মাতারওয়েলের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছিল ডর্টমুন্ড কোচ ওটমার হিট্সফেল্ডকে। সেই স্মৃতির কারণেই তাকে ট্রায়ালের সুযোগ দেওয়া হয়।
ট্রায়ালে সফল হওয়ার পর ডর্টমুন্ডের মূল দলে ল্যামবার্ট নিজের জায়গা পাকা করেন। বুন্দেসলিগায় দ্বিতীয় ম্যাচে ডুসেলডর্ফের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ম্যাচে দুই অ্যাসিস্ট করে তিনি কোচ এবং সমর্থকদের মন জয় করেন। সেই মুহূর্ত থেকেই ডর্টমুন্ডের ভক্তরা তাকে ভালোবেসে ফেলেন।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে ডর্টমুন্ড বুন্দেসলিগায় তৃতীয় হলেও তাদের সেরা পারফরম্যান্স দেখা যায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো শক্তিশালী দলকে সেমিফাইনালে পরাজিত করে ফাইনালে উঠে তারা। ফাইনালে ল্যামবার্টের দায়িত্ব ছিল জিনেদিন জিদানকে থামানো। তার অসাধারণ ট্যাকলিং এবং চাপ প্রয়োগে জিদান নিষ্প্রভ হয়ে পড়েন। সেই ম্যাচেই ল্যামবার্ট কার্ল-হেইঞ্জ রিডলেকে একটি অ্যাসিস্ট দেন এবং ডর্টমুন্ড ৩-১ গোলে জুভেন্টাসকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের কয়েক মাস পরই ল্যামবার্ট পারিবারিক কারণে ডর্টমুন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার সন্তান ফিবরাইল কনভালশনের সমস্যায় ভুগছিল, যা তার পরিবারকে স্কটল্যান্ডে ফিরে যেতে বাধ্য করে। নভেম্বর ১৯৯৭-এ ডর্টমুন্ড ছাড়ার আগে সমর্থকরা তাকে হৃদয়ভরা বিদায় জানান। ব্যানারে লেখা ছিল: 'পল, ডোন্ট গো', আর গ্যালারি জুড়ে ধ্বনিত হয়েছিল: 'পল ল্যামবার্ট, ইউ উইল নেভার ওয়াক অ্যালোন।'
ল্যামবার্ট ডর্টমুন্ডে মাত্র ৬৪টি ম্যাচ খেলেছিলেন, কিন্তু তার প্রভাব আজও অমলিন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের ৩০ বছর পরও ডর্টমুন্ড তাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়। ক্লাব সদস্যদের কাছ থেকে তিনি পান উষ্ণ অভ্যর্থনা।
ডর্টমুন্ড থেকে ফিরে ল্যামবার্ট সেল্টিকের হয়ে চারটি লিগ শিরোপা জেতেন এবং স্কটল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করেন। কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি অ্যাস্টন ভিলা এবং নরউইচ সিটির মতো বড় দল পরিচালনা করেন। তবু ডর্টমুন্ডে তার এক বছরের সাফল্য তার ফুটবল জীবনের সেরা অধ্যায় হিসেবে থেকে গেছে।
'ক্লান্তিকর' বাছাইপর্ব না সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে চান জ্যোতি
কোয়ার্টারেই দেখা হচ্ছে জকোভিচ-আলকারাজের