সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন খুলনার সুশোভন বাছাড়। ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত সুশোভন বাছাড় পেয়েছেন ৯০.৭৫ ।
সুশোভনদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে। বর্তমান থাকেন খুলনা মহানগরীর বয়রার আজিজের মোড় এলাকায়। তার বাবা সুভাস চন্দ্র বাছাড় খুলনার টিঅ্যান্ডটি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক। মা বন্দনা সেন একসময় শিক্ষিকা ছিলেন। বর্তমানে গৃহিণী। সুভাস চন্দ্র ও বন্দনা সেন দম্পতির একমাত্র সন্তান সুশোভন।
সুশোভন টিঅ্যান্ডটি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাস করেন। ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তাদের বাড়িতে আনন্দের বন্যা বইছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের বাসায় ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন।
সুশোভনের বাবা সুভাস চন্দ্র বাছাড় বলেন, আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবে। সেটাই হয়েছে। তবে প্রথম হবে এটা ভাবিনি। তবে চান্স পাবে জানতাম। তিনি বলেন, ছোট থেকে সুশোভন বিভিন্ন ধরনের বই পড়ত। পিএসসি ও জেএসসিতে বৃত্তিসহ সব পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করে। কুয়েটেও চান্স পেয়েছে।
সুশোভন বাছাড় বলেন, আমি কখনো টাইম হিসেব করে পড়াশোনা করিনি। রাত জেগে কখনো পড়িনি। এটাকে সাপোর্টও করি না। পড়ার বাইরে খেলাধুলা করতাম। তবে আমি বই পড়া খুব পছন্দ করি। গল্প, উপন্যাস থেকে শুরু করে সায়েনস ফিকশন, থ্রিলার-জাতীয় বই আমার খুব প্রিয়।
তিনি আরো বলেন, ফার্স্ট হওয়া দেখে আমার প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল এটা ভুল। ছোটবেলা থেকেই আমার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা। এই পেশাটাকে আমার অন্যরকম ভালো লাগে। মনে হতো আমি যদি তাদের মতো হতে পারতাম। সেভাবেই পড়াশোনা করি। দোয়া করবেন যেন ভালো ডাক্তার হতে পারি।
সুশোভনের মা বন্দনা সেন বলেন, আমি শুনে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তারপর কেঁদে ফেলেছিলাম।
এর আগে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় খুলনা সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া মোসলেম মিম প্রথম হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ১৯টি কেন্দ্রের একাধিক ভেন্যুতে এ পরীক্ষা হয়।
এ বছর আবেদন জমা পড়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৬১টি। কোটাসহ মেডিকেলে মোট আসন ৫ হাজার ৩৮০টি। এ হিসাবে এ বছর একটি আসনের পরিবর্তে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।