বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র সংশোধনে ক্লাবগুলোর প্রতিনিধি সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রস্তাবের প্রতিবাদে লিগ বর্জন করছে ঢাকার ক্লাবগুলো। ফলে আজ মাঠে গড়ানোর কথা থাকলেও শুরু হচ্ছে না প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। ক্লাবগুলো প্রতিনিধি না পাঠানোয় শনিবার হয়নি প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের ট্রফি উন্মোচনের আনুষ্ঠানিতাও।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে মতবিনিময় সভা করেছিলেন ঢাকার ক্রিকেটের বিভিন্ন স্তরে অংশ নেওয়া ৭৬টি ক্লাবের প্রতিনিধিরা। শনিবার বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে তাদের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে এবং স্মারকলিপি দেয়। ফারুক গঠনতন্ত্রে প্রস্তাবিত পরিবর্তন দেখে হয়েছেন বিস্মিত, এমনটাই জানিয়েছেন লালমাটিয়া ক্লাবের প্রতিনিধি আদনান রহমান দীপন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত, কারণ বিসিবি প্রেসিডেন্ট জানেনই না যে এ রকম একটা গঠনতন্ত্র হচ্ছে। উনি একমত প্রকাশ করেছেন যে, এর মাধ্যমে ক্লাবগুলোকে অপমান করা হচ্ছে, সংগঠকদের অপমান করা হয়েছে। উনি কথা দিয়েছেন যে, উনি বসবেন, দেখবেন। আমি খুব আশাবাদী, ক্লাবগুলো আশাবাদী যে, বিসিবি প্রেসিডেন্ট একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন। অ্যাম্বার, পারটেক্স, বাংলাদেশ বয়েজ এবং মোহামেডান ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত জিয়াউর রহমান তপু। পারটেক্স প্রিমিয়ার লিগের দল, অ্যাম্বার স্পোর্টিং প্রথম বিভাগের দল আর বাংলাদেশ বয়েজ দ্বিতীয় বিভাগের দল। এই ক্রিকেট সংগঠক জানিয়েছেন, ক্লাবগুলোর অস্তিত্বের প্রশ্ন তাদের কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য করেছে, ‘আপাতত ২৪ তারিখ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে (লিগে অংশগ্রহণ)।’
বিসিবি সভাপতির সঙ্গে শনিবার বৈঠক প্রসঙ্গে তপু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উনি আমাদের সময় দিয়েছিলেন ৪টার সময়। আমরা প্রায় ৩০ মিনিটের মতো বৈঠক করেছি, গঠনতন্ত্র নিয়ে আলাপ করেছি। ফাহিম ভাই (নাজমুল আবেদীন ফাহিম), যিনি গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক, তিনি যে পরিবর্তনগুলো এনেছেন সেটা ফারুক ভাই (বিসিবি সভাপতি) নিজেও জানেন না। সেটা যেকোনো মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে গেছে এবং সেটা সবার কাছে চলে আসছিল। আমাদের কাছে আসার পর আমরা ৭৬ ক্লাব একসঙ্গে বৈঠক করি এবং একটা সিদ্ধান্ত নিই যে, আমরা বিসিবি সভাপতির সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেব। আমাদের দাবি এ
২
ক্যারিবীয়দের নাচিয়ে ছাড়লেন স্পিনাররা
ক্রীড়া ডেস্ক
পাকিস্তান ও উইন্ডিজের মুলতান টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষেই ধারণা পাওয়া গিয়েছিল খেলা চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে গড়াবে না। লো-স্কোরিং ম্যাচের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবেন স্পিনাররা, হলোও তাই। তৃতীয় দিনে দুই সেশনে পড়ল মোট ১৭ উইকেট। পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৭ রানে অলআউট হলে উইন্ডিজের টার্গেট দাঁড়ায় ২৫১। তবে পাকিস্তানের তিন স্পিনারের দাপটে উইন্ডিজ অলআউট হয় ১২৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রানে ৫ উইকেট নেন ডানহাতি অফ স্পিনার সাজিদ খান। ১২৭ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গেছে পাকিস্তান।
উইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ১০ উইকেট নিয়েছিলেন স্পিনাররা। ক্যারিবিয়ানরা টিকেছিল ২৫.২ ওভার। দ্বিতীয় ইনিংসে উইন্ডিজ টিকল ৩৬.৩ ওভার। এবারও ১০ উইকেট নিয়েছেন স্পিনাররাই। গতকাল টেস্টের তৃতীয় দিন লাঞ্চের আগে ১৫.২ ওভার ব্যাট করে উইন্ডিজ। সেই সময়ে ৫ উইকেট হারিয়ে ৫২ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা। এই পাঁচ উইকেটের চারটি নেন সাজিদ খান, অপরটি নোমান আলী।
ষষ্ঠ উইকেটে ৪১ রানের জুটি গড়েন আলিক আথানাজ ও টেভিন ইমলাচ। ইমলাচকে ব্যক্তিগত ১৪ রানে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আবরার আহমেদ। এরপর সিনক্লিয়ারের সঙ্গে ২৮ রানের ছোট জুটি গড়েন আথানাজ। জুটি গড়ার পথে ফিফটি তুলে নেন আথানাজ। তবে দলীয় ১২৩ রানে সিনক্লিয়ারকে (১০) ফিরিয়ে আবারও জুটি ভাঙেন আবরার আহমেদ। সেই থেকে ধসের শুরু। উইন্ডিজ তাদের শেষ চার উইকেট হারায় ১১ বলের মধ্যে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই। আবরার নেন ৪ উইকেট। উইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করা আথানাজকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে চতুর্থবার ইনিংসে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন সাজিদ। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তিনি।
তার আগে পাকিস্তান ৩ উইকেটে ১০৯ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল। ৪৮ রানে ইনিংসের শেষ ৭ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান অলআউট হয় ১৫৭ রানে। জমেল ওয়ারিকান ৩২ রানে নেন ৭ উইকেট। প্রথমবার ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া ওয়ারিকানের এটি সেরা বোলিং। কামরান ঘুলাম করেন ২৭ রান। সালমান আঘা ১৪। তৃতীয় দিনে পাকিস্তানের বাকি ব্যাটসম্যানরা এক অঙ্কের ঘরে রান করেন।
উইন্ডিজের বিপক্ষে মুলতান টেস্টে পাকিস্তানের এমন জয়ে হয়েছে বেশ কিছু রেকর্ড। পাকিস্তান-উইন্ডিজ মুলতান টেস্টে মোট খেলা হয়েছে ১৭৭.২ ওভার অর্থাৎ ১০৬৪ বল যা পাকিস্তানের মাটিতে সবচেয়ে কম ওভার বা বলের টেস্ট। এর আগে ১০৮০ বল খেলা হয়েছিল ১৯৯০ সালে ফরসালাবাদ টেস্টে, সেই ম্যাচেও প্রতিপক্ষ ছিল উইন্ডিজ।
মুলতানের এই টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে রান হয়েছে ৬৪৭, উইকেট পড়েছে ৪০টি। এশিয়ার মাটিতে ৪০ উইকেট পড়া কোনো টেস্ট ম্যাচে তৃতীয় সর্বনিম্ন রান এটি। দুই ইনিংস মিলিয়ে সবচেয়ে কম ৫৩৭ রান হয়েছিল পাকিস্তান ও উইন্ডিজের ১৯৫৯ সালে হওয়া টেস্টে, সেটির ভেন্যু ছিল ঢাকা। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ৬০৫ রান হয়েছিল ২০০৪ সালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ওয়াংখেড়ে টেস্টে।
ই সংশোধন বাতিল করতে হবে, আর ফাহিম সাহেবের পদত্যাগ, এ দুটি দাবি যতক্ষণ পর্যন্ত না মানা হবে ততক্ষণ ঢাকার লিগ বন্ধ থাকবে, এমনকি প্রিমিয়ার লিগেরও দলবদল হবে না। এই প্রেক্ষাপটে আমরা ফারুক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেছি, ফাহিম ভাইও ছিলেন। ফাহিম ভাই অস্বীকার করেছেন যে এটা কীভাবে গেছে তিনি জানেন না। বোর্ড প্রেসিডেন্টও বলেছেন যে, ফাহিম ভাই যে এটা করেছেন সেটা আমাকেও দেখায়নি। আমিও জানি না ব্যাপারটা। এজন্য তিনি আমাদের কাছ থেকে কিছুদিন সময় নিয়ে যেহেতু লিগ (প্রথম বিভাগ) ২০ তারিখ শুরু হওয়ার কথা ছিল, আমরা তো খেলব না বলেছি, উনি বলেছেন, আমাকে চার-পাঁচ দিন সময় দাও, এর মধ্যে আমি এই ব্যপারটা দেখভাল করব।’
লিগকে সামনে রেখে প্রস্তুতিক্যাম্প শুরু করেছিল ক্লাবগুলো। লিগের শুরু পেছানো মানে বাড়তি কিছুদিন ক্যাম্প পরিচালনার বাড়তি খরচ আসবে সংগঠকদের কাঁধেই। এ প্রসঙ্গে তপু বলেছেন, ‘আসলে ক্লাবগুলোর বৃহত্তর স্বার্থেই আমরা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের তো আগে অস্তিত্বের প্রশ্ন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের অস্তিত্বের প্রশ্ন। আমরা ক্লাবগুলো যদি সংগঠক না পাই, দাতা ও পৃষ্ঠপোষক না পাই, তাহলে তো ক্রিকেট খেলা হবে না। শেষপর্যন্ত ক্রিকেটই তো বন্ধ হয়ে যাবে। চার-পাঁচ দিনের জন্য আমরা এত বড় আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যেতে পারি না।’ সংগঠকরা যদিও বলছেন ক্যাম্প চলমান, তবে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে জানা গেছে বেশিরভাগ দলই ক্যাম্প বন্ধ রেখে চার-পাঁচ দিনের ছুটি দিয়ে দিয়েছে। সূর্যতরুণের হয়ে এই মৌসুমে খেলতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মিজানুর রহমান সায়েম, দেশ রূপান্তরকে এই ক্রিকেটার জানিয়েছেন, ছুটি পেয়ে নিজ বাড়ি সিলেটে চলে গেছেন, ‘আমাদের ক্যাম্প ছুটি দেওয়াতে আমি আজ (রবিবার) সকালে সিলেট চলে এসেছি। আমাদের দলগত অনুশীলন বন্ধ হয়ে গেছে। আমি যতটুকু জানি বেশিরভাগ ক্লাবই খেলোয়াড়দের ছুটি দিয়ে দিয়েছে।’ লিগ শুরুর আগে চুক্তির আংশিক অর্থ পেয়েছেন ক্রিকেটাররা, লিগ শুরু হলে আরও কিছু অর্থ পাওয়ার কথা। লিগ পিছিয়ে যাওয়াতে অর্থপ্রাপ্তি নিয়ে দুশ্চিন্তাতে আছেন অনেকেই।