ঘরের মাঠে টানা দুই হার চিটাগংয়ের

এবারের বিপিএলে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল চিটাগং কিংস। টানা চার ম্যাচ জয়ের পর দলটি এখন ঘরের মাঠ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হারল টানা দুই ম্যাচ। সেটিও টেবিলের শীর্ষে থাকা দুই দলের কাছে। রংপুর রাইডার্সের কাছে ৩৩ রানে হারের পর চিটাগং কিংস কাল ফরচুন বরিশালের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে। ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের মধ্যে কেবল এক ম্যাচ জিতেছে চিটাগং।

গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যাট হাতে শুরুটা খারাপ হয়নি চিটাগংয়ের। দুই ওপেনার উসমান খান ও পারভেজ হাসান ইমনের ব্যাটে যোগ হয় ২১ রান। এরপরই শুরু হয় ছন্দপতন। মাত্র ১৯ রানের মাথায় ফেরেন টপঅর্ডারের আরও চার ব্যাটার। ১৮ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় দলটি। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। মোহাম্মদ মিঠুনের ৩৫ ও আরাফাত সানির ২৭ রানের ওপর ভর করে চিটাগং বোর্ডে তোলে কোনোমতে ১২১ রান। ঘরের মাঠে চিটাগংয়ের বিপক্ষে খেলা। দর্শক সাপোর্ট পাওয়ার কথা স্বাগতিকদেরই। সেটি হয়েছেও। তবে নৈপুণ্যে এগিয়ে ছিল চট্টগ্রামের ছেলে তামিমের দল বরিশাল। ম্যাচশেষে রিপন এ নিয়ে কথা বলেছেন, ‘হোম টিম ক্রাউডের অ্যাডভান্টেজ তো পাবেই। কিন্তু আমার মনে হয়েছে মাঠে আমাদের ভক্তরাই সংখ্যায় এগিয়ে ছিলেন।’ ৩ উইকেট নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় রিপন বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনায় ছিল ভালো জায়গায় বল করতে পারলে ফল আসবে। আমিও সেই চেষ্টাটাই করেছি।’

বরিশালের সামনে ১২২ রানের লক্ষ্যটিতে মামুলিই বলা যেতে পারে। তবুও এই স্বল্প লক্ষ্য তাড়া করতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।। ৯.৩ ওভারে ৫৩ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। চট্টগ্রামের ঘরের ছেলে তামিম ১৪ বলে করেছেন কেবল ৮ রান। তামিমের মতো তাওহীদ হৃদয় (১), মুশফিকুর রহিম (১১), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও (১৬) হয়েছেন ব্যর্থ। বিপাকে পড়া বরিশালকে অবশ্য এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পঞ্চম উইকেটে ৪৪ বলে ৬৯ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন মোহাম্মদ নবী ও ডাভিড মালান। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন মালান। ৪১ বলের ইনিংসে মেরেছেন ৩ চার ও ২ ছক্কা। ১৯ বল হাতে রেখে বরিশালের ৬ উইকেটের জয়ে মালানই হয়েছেন ম্যাচসেরা। একে তো বাউন্ডারি বড়, তার ওপর চট্টগ্রামের উইকেট দেখে মনে হয়েছে বল থেমে থেমে আসছে। ম্যাচ শেষে চট্টগ্রামের স্পিন কোচ এনামুল হক অবশ্য এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। ৭ ম্যাচে ৫ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে বরিশাল। আর সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে ৪ জয়ে চিটাগংয়ের অবস্থান তিন নম্বরে।